
২০২৭ সালে পবিত্র হজ্ব পালন করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিবন্ধনের শেষ সময় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব সরকার।
এ উপলক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজ্বযাত্রীদের সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে হজ্ব পালনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকরা সরকারি ব্যবস্থাপনা অথবা অনুমোদিত হজ্ব এজেন্সির মাধ্যমে হজ্বে যেতে পারবেন। ২০২৭ সালের হজ্বের ভিসা ইস্যু শুরু হবে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি এবং হজ ফ্লাইট শুরু হবে ওই বছরের ৮ এপ্রিল ।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রয়োজন হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ্বে অংশ নিতে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে।
হজ্ব পোর্টাল, ঢাকা হজ্ব ক্যাম্প, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যালয়, উপজেলা মডেল মসজিদ এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের ভাউচার সংগ্রহ করা যাবে। প্রাক-নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ৩০ হাজার টাকা অনুমোদিত ব্যাংক বা অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেয়া যাবে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্বে যেতে ইচ্ছুকদের শুধুমাত্র ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত হজ্ব এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হজ্ব পোর্টালে এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর যাচাই, ব্যাংক হিসাব নিশ্চিতকরণ এবং লিখিত চুক্তি সম্পাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধনের রসিদ, সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ্বযাত্রীদের প্যাকেজ নির্বাচন, মক্কা ও মদিনার আবাসনের দূরত্ব, মিনা-আরাফার তাঁবু, পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য সেবার বিষয়ে আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
হজ্বে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ, বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা এবং জেলা পর্যায়ের হজ্ব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট, ভিসা ও নিবন্ধন সনদ নিরাপদে সংরক্ষণ, লাগেজে পরিচয়পত্র সংযুক্ত করা এবং নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ প্রেসক্রিপশনসহ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদনবিহীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, অস্বাভাবিক কম খরচের প্রলোভন কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে হজ্বের অর্থ জমা দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সব ধরনের লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির তথ্য হজ্ব পোর্টাল থেকে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানকালে নুসুক কার্ড, মোয়াল্লেম কার্ড, হোটেল কার্ড ও বাংলাদেশি পরিচয়পত্র সবসময় সঙ্গে রাখা, স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং দলগতভাবে হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ্বযাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে টিকা, হজ্ব প্রশিক্ষণ, ভিসা সহায়তা, হজ্ব ক্যাম্পে আবাসন ও চিকিৎসা, অভিযোগ নিষ্পত্তি, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, বছরব্যাপী কল সেন্টার সেবা এবং সৌদি আরবে চিকিৎসা, হারিয়ে যাওয়া হাজিদের উদ্ধার, লাগেজ অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের যেকোনো প্রয়োজন বা তথ্যের জন্য হজ কল সেন্টার ১৬১৩৬-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Leave a Reply