
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেনু মিয়া পালানোর ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কুলিয়ারচর থানার ৯ (১১)২৫ নম্বর মামলায় ছয়সূতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রেনু মিয়াকে (৫৫) আটক করতে উপজেলার মাধবদী গ্রামে রেনু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, রেনু মিয়াকে আটক করে হাতকড়া পড়ানো হলে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়। এ সময় কৌশলে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান রেনু মিয়া।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে এর কিছুক্ষণ পর দেড় বছরের কন্যা শিশু আয়াত ও ৯ মাসের ছেলে শিশু রায়ানসহ রেনু মিয়ার ছেলে মনিরের স্ত্রী ইতি আক্তার (২৩), মেয়ে বিপাশা আক্তার (২৪), প্রতিবেশী বোন সাদিয়া আক্তার (২০), প্রতিবেশী রত্না (৩০), মরিয়ম (৪৫), আকলিমা (২৬) ও আরিফা আক্তার (৪০) নামে ৭ নারীকে ধরে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাদের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেনু মিয়াকে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে থানায় এনে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে পুলিশের কাজে বাধা প্রধানের অভিযোগে কুলিয়ারচর থানার এসআই সারফিন বাদি হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেনু মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নম্বর-১০।
এ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেনু মিয়ার ছেলে মনিরের স্ত্রী ইতি আক্তার (২৩), প্রতিবেশী বোন সাদিয়া আক্তার (২০), প্রতিবেশী রত্না (৩০) ও আকলিমা (২৬) কে গ্রেফতার দেখিয়ে দেড় বছরের কন্যা শিশু আয়াত ও ৯ মাসের ছেলে শিশু রায়ানসহ তাদেরকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন পুলিশ।
দেড় বছরের শিশু আয়াত ইতি আক্তারের কন্যা ও ৯ মাসের শিশু রায়ান সাদিয়া আক্তারের ছেলে।
এছাড়া রেনু মিয়ার মেয়ে বিপাশা আক্তার (২৪), প্রতিবেশী মরিয়ম (৪৫) ও আরিফা আক্তার (৪০) অসুস্থ থাকায় মুছলেখা নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিকট বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি আদেশে তাকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেনের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার ইন্সপেক্টর(তদন্ত) মো. মোবারক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ওসি কাজী আরিফ উদ্দীনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সাথে তাঁর অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বারে (০১৩২০-০৯৫৩০০) একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply