
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফসহ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা যায়, গত ঈদুল ফিতরের সময় শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শনে এসে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল মাঠের সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় সরকার এই উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়।
প্রকল্পের আওতায় ঈদগাহ মাঠ আধুনিকায়নের জন্য মাটি ভরাট করে ভূমি উঁচু করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং চারপাশে স্লোপ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পুরো মাঠ ঘিরে দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীর ও নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির অজুর সুবিধার্থে ঈদগাহ সংলগ্ন পুকুরের তিন পাশে ঘাট নির্মাণ করা হবে। সংলগ্ন মসজিদকে তিনতলা ভবনে উন্নীত করার পাশাপাশি আধুনিক ওজুখানা ও ওয়াশরুম নির্মাণও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ জানান, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই মাঠ ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল এবং পুকুরের ঘাটলা নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৬ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কিশোরগঞ্জ সফরকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠকে সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দনভাবে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ঈদের জামাতে অংশ নিতে আসা লাখো মুসল্লির জন্য আধুনিক ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
Leave a Reply