
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় ভৈরব হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট রাত আনুমানিক ১২টার কিছু পরে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পুলিশ সদস্য পারভেজ মিয়া (৩৪) হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ভৈরব হাইওয়ে থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। আহত অপর পুলিশ সদস্যের নাম জাকির মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে ভৈরবের দিক থেকে আসা কিশোরগঞ্জগামী একটি কুঁড়া-ভূষি বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-০৮৪৬) দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভৈরব হাইওয়ে থানার ডিউটিরত পিকআপ ভ্যানের ওপর ট্রাকটি উল্টে পড়ে যায়। এতে পিকআপের ভেতরে থাকা দ্বায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পিকআপে থাকা অপর পুলিশ সদস্য জাকির মিয়া আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ কুলিয়ারচর থানা পুলিশ এবং স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে নিহত কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস ভূঁইয়া জানান, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় নিহত পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাকের মালামাল সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া নিহত হয়েছেন। মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহতের স্বজনরা এলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও হাইওয়ে পুলিশের পিকআপ জব্দ করে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। চালক ও সহকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply