1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

কুলিয়ারচরে সাবেক স্ত্রীর গোপন ছবি ভাইরাল করার হুমকি ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি; প্রবাসী স্বামীর ৩ বোন গ্রেফতার

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

 

সংসার বিচ্ছেদের পরও থামেনি রেষারেষি। সাবেক স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রবাসী সাবেক স্বামীর তিন বোনকে গ্রেফতার করেছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ।

গ্রেফতার তিন বোন হলেন, রিমা বেগম (২৪), আকলিমা বেগম (২২) ও শাপলা বেগম (৩২)। তারা মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেনের বোন।

রবিবার, ২ অগাস্ট সাড়ে ৮টার দিকে  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সারফিন মিয়ার নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার পিঠাপই গ্রাম থেকে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় এজাহারভুক্ত তিন নারী আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামাজিকভাবে জামাল হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ভুক্তভোগী নারী। কিন্তু দাম্পত্য কলহের জেরে গত ১২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, সংসার চলাকালে সুকৌশলে স্ত্রীর একান্ত মুহুর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন স্বামী জামাল। বিচ্ছেদের পর জামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেসব ছবি পাঠিয়ে ভুক্তভোগী নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছবিগুলো ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন ভুক্তভোগী নারী। গত ১৯ জুলাই তিনি কিশোরগঞ্জ আদালতে সাবেক স্বামী জামাল হোসেনসহ চারজনকে আসামি করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করছেন। ফলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে” বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

সাইবার অপরাধ ও পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করে নারীদের হেনস্তার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে। সুশীল সমাজের মতে, প্রবাসী জামালকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সেটা অপরাধীদের জন্য কড়া বার্তা হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং