
সরকারি অফিস চলাকালীন সময়ে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তালা ঝুলিয়ে উধাও থাকার অভিযোগ উঠেছে অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে । এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর দুপুরে সরেজমিন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সময় চললেও অফিস প্রাঙ্গণে সুনসান নীরবতা। মূল দরজা ও প্রধান গেটে ঝুলছে তালা। এ সময় জমির পর্চা ও নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত জরুরি সেবা নিতে আসা অন্তত ১০-১২ জন সেবাগ্রহীতা বাইরে অপেক্ষা করতে করতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সেবা নিতে আসা লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মাসুদ মিয়া (৪৪) বলেন, “জমির মাঠ পর্চা নেয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ ধরে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কাউকে না পেয়ে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে আমাকে।”
একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন সেবাগ্রহীতা রেখা, আছমা এবং লক্ষ্মীপুর মাতুয়ারকান্দা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আসাদ মিয়া। তারা জানান, দূরদূরান্ত থেকে জরুরি কাজে এসে অফিসের দরজায় তালা ঝুলতে দেখে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের আল-আমিন নামের আরেক সেবাগ্রহীতা জানান, খারিজের জন্য এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা পাননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যার তাকে উপজেলা ভূমি অফিসে ডেকে নেয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে সেখানে গেছেন।
গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মনির উদ্দিন আহমাদও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, এসিল্যান্ড স্যার রুকন উদ্দিনকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেয়ায় তিনি অফিস বন্ধ করে সেখানে গেছেন।
দায়িত্বশীলদের এমন আচরণ প্রসঙ্গে কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম ইজাজুল হক জানান, অফিস চলাকালীন সময়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ রাখার কোনো নিয়ম বা বিধান নেই। তবে তিনি দাবি করেন, অফিস চলাকালীন সময়ে ওই কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনকে তিনি উপজেলা ভূমি অফিসে দেখেছেন। বিষয়টি ওই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (নায়েব) সাথে কথা বলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের এমন দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে একদিকে যেমন সরকারের সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষ। দ্রুত এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply