1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

ইসলামপুরে দশানী নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা

মো. মনির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, জামালপুর।।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

 

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দশানী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। বাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদীর পাড়ে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কৃষকদের বছরের একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমিও একের পর এক নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নওশাদ  বলেন, আমার কয়েক বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন বাড়িটাও ঝুঁকিতে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় দিন কাটছে।

গৃহবধূ মূত চান মিয়ার স্ত্রী বলেন প্রতিদিন নদীর পাড় ভাঙছে। স্বামী নেই সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছি। রাতেও ঘুমাতে পারি না।

স্থানীয় শিক্ষক মো. শাহিন ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দশানী নদীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনো স্থায়ীভাবে নদী সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার বিষয়ে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান জানান, ইসলামপুর উপজেলায় নদী ভাঙন রোধে , ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নদীপাড়ের মানুষের দাবি, অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় চলমান বর্ষা মৌসুমে আরও অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং