1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরগঞ্জে ইজিপিপি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

উবায়দুল্লাহ রুমি, স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এই অভিযোগ দেয়া হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৮৯৭ জন শ্রমিকের বিপরীতে মোট ৩ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে কাজ শুরুর কথা থাকলেও বাস্তবে ওই তারিখে কোনো ইউনিয়নেই কাজ শুরু হয়নি। তবে কাজ না করেই কিছু ইউনিয়নের প্রকল্প চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিকদের নামে প্রথম ২০ দিনের বিল উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচর নওপাড়া গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিন অভিযোগপত্রে দাবি করেন, শ্রমিকদের প্রকৃত মোবাইল নম্বর ব্যবহার না করে ভুয়া সিম দিয়ে মাস্টাররোল তৈরি করা হয়। প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে কয়েক শ’ মোবাইল সিম সংগ্রহ করে সেগুলো ব্যবহার করে বিল উত্তোলন করেন। উত্তোলিত টাকার একটি বড় অংশ আগাম ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরিষা, রাজিবপুর, আংশিক জাটিয়া ও মাইজবাগ ইউনিয়নের প্রথম ২০ দিনের বরাদ্দের পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়। সর্বোচ্চ ১০-২০ দিনের শ্রম দেখিয়ে দুই দফায় বিল উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃত শ্রমিকরা কয়দিন কাজ হয়েছে, তা জানেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা প্রতিবেদনে জাটিয়া ইউনিয়নে ১৬৭ জন ও মাইজবাগ ইউনিয়নে ২০৮ জন শ্রমিকের ২০ দিনের মজুরি বাবদ প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পের নন-ওয়েজ খাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশ অর্থ প্রকল্প চেয়ারম্যানদের পাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা পাননি। ভুয়া স্বাক্ষর ও ভুয়া ভাউচার তৈরি করে এসব অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মাস্টাররোল, শ্রমিক তালিকা, মোবাইল নম্বর যাচাই এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রতিটি প্রকল্প সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং