1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে চাঁদা না দেয়ায় বাড়ি নির্মাণে বাধা, ভূমি দখলচেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

রায়হান জামান।।
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ কলাপাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ কাজে চাঁদা না দেয়ায় ভূমি দখলের চেষ্টা এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মো. সোহেল মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আজিম উদ্দিন গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, মো. সাদেকুল রহমান (৪৫), আবু বক্কর ছিদ্দিক(৫৫), হুমায়ুন কবির(৪৫), শরীফ মিয়া (২৮) ও মাহাবুল মিয়া (৩০) ।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. আজিম উদ্দিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শোলাকিয়া মৌজার আরএস ১০৪১, ১০৪২ ও ১০২১ দাগে ৬ শতাংশ জমি  চলতি বছরের ১০ মার্চ মো. আজিজুল ইসলাম ও মো. জহিরুল হকের কাছ থেকে সাফকাওলা দলিল মূলে ক্রয় করেন। নিজের নামে নামজারি শেষে এক বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিতে ভোগদখলে ছিলেন তিনি।

গত ২০ নভেম্বর ওই জায়গায় বিল্ডিং নির্মাণের সামগ্রী নিয়ে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আজিমের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা বলে ওই জায়গা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এখানে কাজ করতে হলে চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দিলে হত্যা করার হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন আজিম। পরে তিনি প্রাণভয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

জমি বিক্রেতা মহিনন্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘‘২০১১ সালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আজহারুল হক ও সেনাবাহিনীর সদস্য জহিরুল হকসহ আমরা তিন বন্ধু মিলে মোছা. হেলেনা আক্তার, মোছা. শিরিনা আক্তার ও মো. আবু বক্কর ছিদ্দিকের কাছ থেকে সাফ কাওলা দলিল মূলে ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে নিজেদের নামে নামজারি করে ভোগ দখলে করি। পরবর্তীতে আজহারুল হক ওই ভূমির উত্তর পাশের ৩শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণ করলেও আমি ও জহিরুল হক বাড়ি নির্মাণ না করে আজহারুল হকের বাড়ির দক্ষিণ পাশের বাকি ৬ শতাংশ জায়গা ২০২৪ সালের শেষের দিকে স্থানীয় মো. আজিম মিয়ার কাছে সাফ কাওলা দলিল মূলে জায়গা বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেই। পরর্তীতে আজিম ৬শতাংশ জায়গা নিজেদের নামে নামজারি করে প্রায় ১বছর ভোগ দখল করার পর তিনি যখন বিল্ডিং নির্মাণের সামগ্রী নিয়ে আসেন তখন সোহেল ও বাকি অভিযুক্তরা কাজে বাধা দেয়। তারা আজিমকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ভূমি কখনোই সোহেলের পৈত্রিক সম্পদ ছিল না। কারণ সোহেলের মা মোছা. শিরিনা আক্তার নিজেও অন্যের কাছ থেকে এই জায়গা ক্রয় করে আমাদের কাছে বিক্রি করেছেন।’’

অন্য বিক্রেতা সাবেক সেনা সদস্য মো. জহিরুল হক বলেন, ‘‘আজিমকে আইনসম্মতভাবে বিক্রি করা ও দখল বুঝিয়ে দেয়া জমিতে সোহেলরা নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছে, যা জঘন্য অপরাধ। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদার জন্য তারা তাকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

কলাপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, সোহেল কিছুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় জেল থেকে বের হয়েছে। সে এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। সোহেল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যা করছে এখনও তাই করে বেড়াচ্ছে। জেল থেকে বের হয়ে তার গুণ্ডামী আরও বেড়ে গেছে। সে শুধু আজিমের জায়গাই নয়, আমাদের এলাকায় ভিক্ষা করেন এমন এক মহিলার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে তার বসত বাড়ি দখলের চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে সেখান থেকে সরে গিয়েছিল। কিন্তু এখন দেনদরবার ও গ্রামের কাউকে সে মানে না।

অভিযুক্ত সোহেল মিয়ার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘জায়গার সমস্যা আপনি সাংবাদিক তা জেনে কি করবেন? এটা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। আমি তার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করিনি। তার সাহস থাকলে বলেন আমার সামনে এসে কথা বলতো। পরে তিনি বলেন, এই জায়গায় আমার কোনো দাবি নেই। আমি যে দাগে দাবি করছি সেটা আমার দাদার সম্পত্তি। আমার দাদারে সিএস এর মালিকে লিখে দিয়ে গেছে এই সূত্রে ধরে আমার দাদার নামে মাঠ রেকর্ড হয়েছে। সেই সূত্রে আমার বাবা-চাচা তিনজন ও সাথে আমার ফুফুরা আছে। এই হিসেবে আমার বাবা একটা অংশের মালিক সেই সূত্রে আমি মালিক।’’

এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং