1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

অর্থাভাবে থেমে আছে চিকিৎসা, সংসারের হাল ধরা মোনায়েমের হাল ধরবে কে!

উজ্জ্বল সরকার, স্টাফ রিপোর্টার, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে

 

আজ থেকে প্রায় ৮ মাস আগের কথা। দরিদ্র পরিবার, তাই দিনমজুর পিতার সাথে সংসারের হাল ধরতে বিদ্যুৎ লাইনে কাজ নিয়েছিলো মোহাম্মদ মোনায়েম নামের ২৬ বছরের এক যুবক। কাজ করতে গেলে হাজিরা হিসেবে প্রতিদিন ৬০০ টাকা পেতেন তিনি। এভাবে কাজ করে দরিদ্র পিতার সাথে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি। একদিন বিয়ে করে বউ নিয়ে এলেন সংসারে। ভালোই দিন কাটছিলো তার। তারপর একদিন অন্ধকার নেমে আসে তার জীবনে। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর এলাকায় বিদ্যুৎ এর লাইনে কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ফোরম্যানের ভুল নির্দেশে বিদ্যুতের খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে  মাটিতে ছিটকে পড়ে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। 

তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া গ্রামে। পরিবার ও আত্নীয় স্বজনের চেষ্টায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে তার মেরুদণ্ডে ছয়টি রিং পড়ালেও ওঠে বসতে পর্যন্ত পারছে না তিনি। শুয়ে থাকতে থাকতে অপারেশনের জায়গায় ঘা হয়ে গেছে। বর্তমানে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা থেমে আছে। তাই সমাজের বিত্তশালীদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন মোহাম্মদ মোনায়েম।

বুধবার সকালে সরেজমিনে কথা বলতে গেলে আকুল কন্ঠে মোনায়েম বলেন, ‘শ্রীপুরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতাম। কাজ করতে গেলে হাজিরা হিসেবে ৬ শ টাকা পেতাম। সেদিন বৃষ্টি ছিলো। শরীরটাও বেশি ভালো ছিল না। যে জন্য ওই দিন কাজে যেতে ইচ্ছে হইছিল না। ফোরম্যানকে মোবাইলে না করছিলাম আজ কাজে যাবো না। তবুও পিকআপ পাঠিয়ে দিল কাজে যাওয়ার জন্য।’

তিনি আরও বলেন,’সাতকামাইরে কাজে নিয়ে ফোরম্যান বলছে লাইন বন্ধ। তার নির্দেশে খুঁটিতে উঠি। অথচ  লাইন বন্ধ নিশ্চিত না করেই ধমক দিয়ে খুঁটিতে উঠতে বলেন। খুঁটিতে উঠতেই  বাতাসে খুঁটির সাথে বৈদ্যুতিক তার  বারি খেয়ে খাম্বাসহ লাইন কারেন্ট হয়ে যায়। পরে শক খেয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।’

মোনায়েমের পিতা মো. কাঞ্চন মিয়া বলেন, তার মেরুদণ্ডে ছয়টি রিং পড়ানো হয়েছে। চিকিৎসা বাবদ পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে নিঃস্ব হয়ে গেছি। ভিটেমাটি ছাড়া সহায় সম্বল বলতে আর কিছুই নেই।  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কিছু টাকা দিলেও এখন আর কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। এলাকাবাসীর সহায়তায় এ পর্যন্ত চিকিৎসা করে আসলেও আমার ছেলেটা ওঠে বসতে পর্যন্ত পারছে না। শুয়ে থাকতে থাকতে অপারেশনের জায়গায় ঘা হয়ে পড়েছে। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং