
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৪৪নং সুরাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া ভাউচার তৈরী করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের উপ-বৃত্তির টাকা নিজ মোবাইল নাম্বারে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত করে যাচ্ছেন। এমনি অভিযোগ উঠেছে সুরাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিভাবক সদস্য মো. আব্দুল কদ্দুছ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন। গত ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানতে পেরেছেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য সরকারি অনুদান বাবাদ স্লিপের টাকা, রুটিন মেইনটেইন্সের টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে আসা সরকারি অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় না করে রেজিউলেশন খাতায় ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে এবং ভূয়া ভাউচার তৈরী করে সমস্ত অর্থ আত্মসাত করেছেন।
এছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত স্টিলের আলমারি বিক্রির টাকা ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রধান শিক্ষক তাঁর নিজস্ব মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে (০১৯২৫-১০৩৭১২) টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন বলে শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম ও সদস্য আ: কদ্দুছ জানান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছফিউল হক নিয়োগী প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীর উপ-বৃত্তির টাকা নিজ মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের টাকা নিয়ে অভিভাবকদেরকে ঘুরানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রধান শিক্ষক তার নিজ মনগড়া মত কাজ করেন। এখানে কাহারও কোন জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হয়না। আলমারি বিক্রির বিষয়টিও আমাদেরকে জানাননি তিনি। তিনি রেজিউলিশন খাতা নিয়ে আসেন আমি স্বাক্ষর দিয়ে দিছি। এর বেশি কিছু আমি জানিনা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি দশ মিনিট পরে কল ব্যাক করবেন কল কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফজিলাতুন্নেছা বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তমূলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply