
ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কিশোরগঞ্জের সফল আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলমগীর হোসেন সিটি পরিচালিত দশ দিনব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর দুপুরে শহরের নগুয়া এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মশক নিধন ঔষধ স্প্রে’র মাধ্যমে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আলমগীর হোসেন সিটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল আলম শিপলু।
১৩ অক্টোবর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে ২২ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পর্যায়ক্রমে পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শুধু মশা নিধন নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করাও ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মাতৃসদন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ডায়াবেটিস হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, শিশু সদন (বালিকা), চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন রোগি, তাদের স্বজন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব এলাকার আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার উপদ্রব কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন ড্রেন, ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ স্থান, ঝোপঝাড় ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে মশক নিধন স্প্রে করা হয়। আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেয়ার বিষয়েও সচেতন করা হয়।
এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি, ফুলের টবের নিচের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম, বালতি ও ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেয়া হয় বাসিন্দাদের। কর্মসূচির মাধ্যমে নগরবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু মশক নিধন যন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগ। নাগরিকেরা নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার প্রজননস্থল কমিয়ে আনা সম্ভব।
নগুয়া এলাকার বাসিন্দা মিজানুল ইসলাম বলেন, “এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। এমন পরিস্থিতিতে আলমগীর হোসেন সিটির পক্ষ থেকে শিপলু ভাইয়ের উদ্যোগে গত কয়েক দিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মেশিনের মাধ্যমে ধোঁয়া ছড়িয়ে মশা নিধনের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। আমরা তাঁর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”
কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শোয়েব বলেন, “শিপলু সাহেবের উদ্যোগে নয় দিনব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচিতে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে কাজ করেছি। আমার উপলব্ধি, শুধু পৌরসভা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডেঙ্গু নির্মূল সম্ভব নয়; এ জন্য সবার সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ড্রেনে পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনা আমরাই ফেলি। একটু সচেতন হলেই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শিপলু সাহেবের উদ্যোগ দেখে অন্যরাও এগিয়ে এলে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
কর্মসূচির উদ্যোক্তা মো. শফিকুল আলম শিপলু বলেন, “গত ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ১৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে মশক নিধন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এককভাবে কারও পক্ষে পৌর এলাকাকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব নয়। এ জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।”
শিপলু আরও বলেন, “মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। এ ধরনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি। মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
Leave a Reply