
আর মাত্র একটি দিন পরই ছিল সেমিস্টার পরীক্ষা। বই-খাতা গুছিয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া (১৪)। কিন্তু সেই পরীক্ষার হলে আর বসা হলো না তার।
শুক্রবার, ২৬ জুন বিকেলে নিজ ঘরের সিলিংয়ে মায়ের শাড়ি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। হাসপাতালে নেয়ার পথেই থেমে যায় তার জীবন।
ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের কান্দুলিয়া গ্রামে। নিহত সাদিয়া কান্দুলিয়া গ্রামের সানাউল্লাহর মেয়ে এবং স্থানীয় এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সাদিয়া তার জমজ ছোট বোন সানিয়াকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে মাছ ধরতে যায়। কিছু সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরে আসে তারা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যার কোনো উত্তর এখনো খুঁজে পায়নি পরিবার কিংবা এলাকাবাসী।
বিকেল প্রায় ৩টার দিকে নিজ ঘরের সিলিংয়ে মায়ের শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাদিয়া। পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে প্রাণের স্পন্দন ছিল। পরে তাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার। স্বজনদের দাবি, সাদিয়ার ওপর জ্বিন-ভূতের প্রভাব ছিলো এবং তাদের বিশ্বাস, এর কারণেই সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
তবে স্থানীয়দের অনেকের কাছেই পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হয়েছে। কেউ কেউ ব্যক্তিগত বা প্রেমঘটিত কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশও এমন কোনো কারণ নিশ্চিত করেনি।
খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ বলেন, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার (২৭জুন) কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Leave a Reply