
কিশোরগঞ্জের ভৈরব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কাজের দক্ষতা ও প্রতিভা দেশের মানুষের কাছে প্রদর্শন করার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে শনিবার ২৭ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে ভৈরব সরকারী স্কুল ও কলেজে টেকনিক্যাল স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫-এর প্রাতিষ্ঠানিক পর্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন “Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের অনন্য এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শবনম শারমিন।
এসময় ভৈরব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ASSET প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান, ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সোহেল মিয়া ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার স্বপ্না বেগম।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম আরিফ সারোয়ার (বাতেন) ও খাজা স্টিল ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী মো. নূরুল হক।
এতে প্রতিষ্ঠানটির ৪টি টেকনোলজি থেকে মোট ২২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প অংশগ্রহণ করে। প্রথম স্থান অধিকার করে হাইড্রোলিক প্রেস, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ড্রোন অপারেটেড প্লেয়ার মেশিন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে স্মার্ট এগ্রিকালচারাল সিসটেম শীর্ষক উদ্ভাবন।
অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের চীফ ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম খাঁন উপস্থিত সকলকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শবনম শারমিন দক্ষতা ও ইনোভেশেনের গুরুত্ব তোলে ধরে প্রতিযোগিদের উৎসাহিত করেন। এর পর ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।
সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন কারিগরি শিক্ষার প্রতি প্রতিযাগিতের আরো নিবেদিত হওয়ার আহবান জানান, সারাদিন করা ছাত্রছাত্রীদের কার্যক্রমের প্রসংশা করে তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
জানা যায়, কারিগরি শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মোট ২২৭টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে ভৈরব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ সুসজ্জিত এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে।
সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রতিযোগিতায় বরিশালের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কলকারখানা ও সুশীলসমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৫ এর আঞ্চলিক পর্ব আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এবং জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতা ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের প্রদান করা হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।
Leave a Reply