
কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরের মাঠজুড়ে এখন সোনালী ধানের সমারোহ। শুরু হয়েছে বোরো মৌসুমের ধানকাটা উৎসব। পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক, কৃষি শ্রমিক, গৃহবধূ এমনকি শিশুরাও। হাওরের গ্রামাঞ্চলে বইছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে কৃষি শ্রমিক, যাদের স্থানীয়ভাবে ‘দাওয়ালো’ বলা হয়, মাঠে নেমে পড়ছেন ধান কাটতে। প্রখর রোদে কপাল বেয়ে ঘাম ঝরলেও তাদের মুখে নেই ক্লান্তির কোনো ছাপ । বরং তাদের একে-অন্যের সঙ্গে খুনসুঁটি, হাসি-ঠাট্টা আর চিরচেনা ভাটিয়ালি গানের সুরে মুখর পুরো মাঠ।
খেতের পাশেই তৈরি করা হয়েছে ধানের খলা। সেখানে চলছে ধান মাড়াই, ঝাড়াই, রোদে শুকানো, পরিমাপ ও বস্তায় ভরা কাজ। কৃষাণী ও শিশুদের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে প্রতিটি খলা। ধান কাটার খরচ মেটাতে অনেকেই জমির পাশেই ভেজা ধান বিক্রি করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এবার কিশোরগঞ্জ জেলায় এক লাখ ৬৮ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরের তিন উপজেলা—ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে এক লাখ ৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ আশাবাদী, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
Leave a Reply