1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

সম্পাদকীয়: প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম

আহমাদ ফরিদ, প্রধান সম্পাদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: আল জাজিরা

 

ক্ষমতায় আরোহণের সাথে সাথেই প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাইডেন সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাকারী ১২জন এটর্নিকে তিনি ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করেছেন।

ইউএস এইডের উর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তাকে তিনি বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছেন। সাহায্য বন্ধ করতে চলেছেন বিশ্ব জলবায়ূ তহবিল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায়। এতদিন চলে আসা সারাবিশ্বে আমিরিকা যে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছিলো, সেগুলো বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই তিনি এমন কিছু প্রজ্ঞাপনে  সই করেছেন যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক চরিত্রে কালিমা লেপন করে। অভিবাসীদের বহিস্কার, অভিবাসীদের মাঝ থেকে জন্ম নেয়াদের নাগরিকত্ব না দেয়া, পূর্ব তিমুর দখল করে নেয়ার হুমকি, পানামা খাল দখলের হুমকি, কানাডাকে অঙ্গরাজ্য বানানোর প্রস্তাবসহ নানা উদ্ভট কর্মকাণ্ড তিনি করেই চলেছেন।

ইতিমধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, ফরেন সার্ভিসে ঝানু ঝানু কর্তাদেরসহ বহু সরকারি চাকুরেকে বরখাস্ত করার মত ঘটনায় তার প্রতিশোধ স্পৃহার পরিচয় প্রমাণ করেছ।

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সেনা বাহিনী থেকে বরখাস্ত করার ঘোষণা, যারা বাইডেন আমলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তারাও রয়েছেন প্রতিশোধের শঙ্কায়।

আবার করোনাকালীন সময়ে যেসব মার্কিন সেনা ভ্যাকসিন না নেয়ায় বরখাস্ত হয়েছিলেন তাদেরকে ট্রাম্প পুনরায় নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মোট কথা ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প মার্কিন সমাজে প্রচলিত রীতিনীতিকে তছনছ করে দিতে চলেছেন। অনেক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপকে পাগলামী মনে করছেন। তারা বলছেন, ট্রাম্প এমন একজন প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে ফৌজদারী দণ্ড রয়েছে। এটা মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। প্রথমবার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে বহু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। ছিল ক্যাপিট্যাল হিলে হামলার ঘটনায় মদদদানের অভিযোগ।

এমন একজন উন্মত্ত ব্যক্তি, যিনি কিনা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর একজন প্রেসিডেন্ট, তার এহেন কর্মকাণ্ড, চিন্তাধারা, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় সারা বিশ্বের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে আশার কথা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন যুদ্ধ বিরোধী ব্যক্তি-এমন ধারণা বিশ্ববাসীর রয়েছে। নির্বাচনের আগের তিনি এক ভাষণে বলেছিলেন তিনি নির্বাচিত হলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফিলিস্তিনীদের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করেই হোয়াইট হাউজের দরোজায় আসতে হবে। তিনি ইতিমধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন।

মোট কথা প্রায়োন্মাদ একজন ব্যক্তি যখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতার আসনে আসীন থাকেন তখন তিনি যেকোন সময় যেকোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকেই যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং