
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় পিতাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি মো. আব্দুল আওয়াল ওরফে বাদল (৪২) কে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ও র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল।
বুধবার, ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টায় র্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাদল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের ছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে তিন মাস আগে স্ত্রী তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে বাদল তার পিতা আ. মালেকের ওপর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।
গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে বাদল তার পিতাকে হুমকি দেন যে, স্ত্রী সন্তানদের ফিরিয়ে না আনলে তিনি পিতাকে খুন করবেন।
পরদিন, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে বাদি মো. খোকন মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে বাদল হাতে থাকা ছুরি দিয়ে পিতা আ. মালেকের বুকে আঘাত করেন এবং দ্রুত পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় মালেককে প্রথমে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেদিনই বিকেল আড়াইটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের ছোট ছেলে মো. খোকন মিয়া বাদি হয়ে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব আরো জানায়, মামলার পর থেকে বাদল পলাতক ছিলেন। ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা তার অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ এবং র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চিটাগাং রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত বাদলকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য করিমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
Leave a Reply