1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

শহিদ ছেলের শোকে মারা গেলেন বাবা,ক্যান্সার আক্রান্ত ছোট ছেলেকে নিয়ে এক মায়ের সংগ্রাম

উজ্জ্বল সরকার ,হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

 

জাহিদুল ইসলাম সোহরাব ও ফাতেমা-তুজ- জোহরা দম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরেই বসবাস করছিলেন ঢাকায়। তাদের দুই ছেলের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ বড় এবং মাহমুদুল্লাহ বিন জাহিদ ছোট। ছেলেদের নিয়েই তাদের ছিলো সুখের সংসার। মেধাবী ওই দুই ছেলেকে অনেক কষ্টে  ঢাকাতেই পড়াশোনা করাচ্ছিলেন ওই দম্পতি।

তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামে। বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ছিলেন ১৭ বছরের এক সুদর্শন যুবক। পড়তেন ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মা-বাবার বারণকে উপেক্ষা করেই লুকিয়ে অংশগ্রহণ করতেন বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে। গত বছরের ৫ ই অগাস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে সবার সাথে বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ। মা’কে না বলেই সে দুপুরে খাবার খেয়ে বের হয়ে পড়েছিলেন বিজয়ের আনন্দে ভাগ বসাতে। কিন্তু বিধিবাম, হঠাৎ একটি মৃত্যু সংবাদই যেন সুখী পরিবারটিকে স্তব্দ করে দেয়। 

জানা যায়, ঢাকার উত্তরায় বিজয় মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ। পরে স্থানীয়রা নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হঠাৎ বড় ছেলের মৃত্যুর সংবাদে তাদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

বড় ছেলেকে হারিয়ে মা ফাতেমা-তুজ- জোহরা ও পিতা জাহেদুল ইসলাম সোহরাব একরকম পাগল হয়ে যান। থেমে নেই তাদের কান্নার রোল। গত বছরের ৬ অগাস্ট সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি হোসেনপুর উপজেলার বর্শিকুড়ায় বড় ছেলের লাশ দাফন করা হয়।

এভাবে সময় যেতে না যেতেই শোকে আচ্ছন্ন ওই পরিবারে নেমে আসে আরেক কালো ছায়া। সম্প্রতি খবর আসে তাদের ছোট ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত। ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জাহিদ সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে ঢাকার একটি হাসপাতালে।

একদিকে বড় ছেলের  অকাল মৃত্যু। অপরদিকে,ছোট ছেলের ক্যান্সার! এসব হয়তো মেনে নিতে পারেন নি বাবা জাহিদুল ইসলাম সোহরাব।ছেলের শোকে গত ১৮  মার্চ স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। এরপর ছোট ছেলেকে নিয়ে  শুরু হয় মা ফাতেমা-তুজ- জোহরার সংগ্রামী জীবন। 

মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট দুপুরে কথা হয় শহিদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা-তুজ -জোহরার সাথে। তিন কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার ছেলে এবার ইন্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতো। আমাকে না জানিয়েই সে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতো। আমার ছেলের জন্য ও আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং