
উপমহাদেশের প্রাচীন ও সবচেয়ে বড় ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। প্রায় ২০০ বছর যাবৎ প্রত্যেক ঈদে এ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শোলাকিয়ার বৃহৎ জামাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং দেশের বাহির থেকেও অনেকে ছুটে আসেন।
কিন্ত এই ঈদগাহে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য — ঈদগাহ সংলগ্ন গরুর হাট। পশুর গোবরে ভর্তি চারপাশ, কর্দমাক্ত কাদামাটি, পচা দুর্গন্ধ, আর তার মাঝ দিয়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ মুসল্লিদের জন্য দুরুহ হয়ে পড়ে।
প্রতি সপ্তাহ শুক্রবার জুম্মার নামাজে আসা মুসুল্লি এবং বিশেষ করে কোরবানি ঈদে আসা মুসুল্লিদেরও পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।
ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহের পবিত্রতা রক্ষার্থে মাঠ ঘেঁষা গরু হাটের গবাদিপশুর মলমূত্র মুক্ত পরিবেশে জুম’আ ও ঈদের নামায আদায়ের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ পৌরবাসী গরুর হাট অন্যত্র স্থানান্তর করতে সমাবেশ এবং মানববন্ধন করার পরেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।
শোলাকিয়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মাজহার বলেন- ‘ শোলাকিয়া ঈদগাহ একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ। এখানে লাখ লাখ মুসল্লিদের সমাগমে দেশের বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতি শুক্রবার এই মাঠের মসজিদে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এমন একটি মাঠের পাশে পশুর হাট থাকাটা ঈদগাহে আগত মুসুল্লিদের কাছে খুবই দৃষ্টিকটু লাগে। শুধু তাই নয়, আমরা যারা শোলাকিয়ার বাসিন্দা তাদের প্রতি শুক্রবার এই গরুর হাটের জন্য ২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে একরামপুর হয়ে শহরের ভেতর প্রবেশ করতে হয়।’
আল্লামা ড. খলীলুর রহমান খান আল আযহারী বলেন-‘শোলাকিয়া ঈদগাহের লাগোয়া পশ্চিমের ভূমিটি একটি সাপ্তাহিক গরুর হাট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যার ফলে জুম’আ নামাযে হাজার হাজার মুসল্লি গবাদিপশুর মলমূত্রের কারণে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করেন। দুই ঈদের নামাযে আসা লাখো মানুষের লেজে-গোবরে অবস্থার অবসান হওয়া উচিত। জেলার মানুষ শত শত বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত শোলাকিয়া ঈদগাহ সুরক্ষার জন্য ঈদগাহের পশ্চিম পাশ থেকে এই পশুর হাট অন্যত্র সরানোর দাবি জানিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের রাজস্ব হারানোর অজুহাতে গরু হাটে হাট অন্যত্র স্থানান্তর না করার সিন্ধান্ত মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। গরু হাট অন্যত্র সরালে সুপ্রসস্ত নতুন হাটে রাজস্ব আয় আরও বাড়বে ‘।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মমতাজ বেগম (উপসচিব) বলেন- শোলাকিয়া ইচ্ছাগঞ্জ গরুর হাটটি যুগ-যুগান্তর ধরে চলে আসছে। পৌরবাসীর সুবিধার্থে স্থায়ী ভাবে র্দীঘদিন যাবৎ প্রতি শুক্রবার হাটটি বসে। এটা কোনো অস্থায়ী হাট না। শোলাকিয়ায় আগত মুসল্লিদের কথা মাথায় রেখে আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা টিম সারারাত কাজ করে ভোররাতের মধ্যে সকল বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
Leave a Reply