
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল (রবিবার) কিশোরগঞ্জ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ সার্বিক আয়োজন এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নতুন উদ্যোগের সূচনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবেন। সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়েরও কথা রয়েছে তাঁর।
এরপর তিনি কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। পরে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ মৎস্য উদ্যোক্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়ার কথা রয়েছে।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যাবেন। সেখানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। একই স্থানে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সফরের শেষ পর্যায়ে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে সাধারণ মানুষের জন্য আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন সামাজিক অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরের নতুন স্টেডিয়াম এলাকায় অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। সফরের কর্মসূচির স্থানগুলো পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপি নেতারা মনে করছেন, তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, মৎস্য ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে কিশোরগঞ্জের মানুষ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও উন্নয়ন প্রত্যাশা গুরুত্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে বলে জানান। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, পাকুন্দিয়ার এই ঐতিহাসিক সূচনার মধ্য দিয়েই প্রান্তিক মৎস্য চাষিদের উৎসাহিত করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এখন শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
Leave a Reply