1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন

কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকারের মৃত্যু,”বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের শোক”

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

‎বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের (বড়বাড়ি) নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। শহীদ সরকার ছয়সূতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

‎তিনি মাটিকাটা গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে আইপিএসের বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন শহীদ। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

‎কিছুক্ষণ পর বড় ভাই জুবায়ের আহমেদ তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। মুহুর্তেই বাড়িতে নেমে আসে আতঙ্ক। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শহীদ সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎যে তরুণ সন্ধ্যায় নিজের হাতে ঘরের বৈদ্যুতিক ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছিলেন, কয়েক মিনিট পর সেই তরুণের নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে স্বজনদের। একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা মুহুর্তেই থামিয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, স্বজনদের আশা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের এক তরুণ কর্মীর পথচলা।

‎শহীদ সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোক ছুঁয়ে গেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও।

তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম আলী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম মুছা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আরশ মিয়া, ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন মুর্শেদ নিজামী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. মোসলেহ উদ্দিন রতন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটনসহ ছাত্রদলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয় বাসিন্দারা পৃথকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকবার্তা দিচ্ছেন।

মরহুমের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সবাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন-এমন দোয়া করেছেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শহীদ সরকার ছিলেন রাজপথের সক্রিয় ও উদ্যমী তরুণ সংগঠক। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ছাত্রদল হারিয়েছে একজন সম্ভাবনাময় তরুণ নেতাকে।

‎কিন্তু পরিবারের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন কারও সন্তান, কারও ভাই, কারও আপনজন।

‎একটি আইপিএসের ত্রুটি সারাতে গিয়ে আর ফিরলেন না শহীদ। সন্ধ্যার যে মুহূর্তে তিনি জীবনের স্বাভাবিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন, সেই মুহূর্তই হয়ে রইল তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং