
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে মো. জজ মিয়া (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার, ১৫ অগাস্ট কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি দায়ের করেন ধর্ষিতার মেয়ে শিশুর অসহায় পিতা।
অভিযুক্ত জজ মিয়া আলীনগর গ্রামের মৃত আ. গফুরের ছেলে ও স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আলীনগর পূর্বপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী শিশু নিজ বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড় ফারুক মিয়ার জমিতে লাকড়ি শুকাতে যায়। এ সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা জজ মিয়া শিশুটির মুখে গামছা পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির পড়নের কাপড় খুলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
শিশুটির ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্ত জজ মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ বিষয়টি শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপোস-মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
এরপর ওইদিন রাতে শিশুটির বাড়িতে একটি সালিশ বসিয়ে শিশুটির ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে তাঁর পরিবারের নিকট ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় মাতব্বররা। তবে অন্যায় এই আপসে রাজি না হয়ে পরের দিন শুক্রবার ১৪ আগস্ট সকালে মেয়েকে সাথে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন শিশুটির বাবা।
শিশুটির বাবা জানান, অভিযুক্ত জজ মিয়া পূর্বেও এলাকায় এ ধরনের জঘন্য অপকর্ম ঘটিয়েছে। ইতিপূর্বে তার বড় ভাইয়ের ছোট মেয়ের সাথেও সে একই ধরনের অপরাধ করেছিল। সে সময় উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় সে পুনরায় এই বর্বরতা চালানোর সাহস পেয়েছে। তিনি আরও জানান, থানায় অভিযোগ দেয়ার পর থেকে একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা রহস্যজনক কারণে আতঙ্কে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থায় বর্তমানে তারা বিচারহীনতায় ভুগছেন দাবি করে ন্যায়বিচারের আশায় তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের বিচারিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অপর দিকে শিশুটির চাচা মো. নজরুল ইসলাম (৩৮) বলেন, “থানায় অভিযোগ দেয়ার পর থেকে অভিযুক্ত জজ মিয়ার লোকজন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রভাবশালী আসামির ভয়ে পুরো পরিবার নিয়ে আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. জজ মিয়া পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন বলেন, “এ ঘটনার খবর পেয়ে আমি ভিকটিমের খোঁজ খবর নিতে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। অন্যায়ের কোনো ছাড় নেই। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিরপরাধ হলে তাকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত।”
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিডিচ্যানেলফোরকে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে বলা যাবে ধর্ষণ নাকি ধর্ষণের চেষ্টা, তাই ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply