1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

অবশেষে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারকে তার কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করলো উপজেলা প্রশাসন

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে
কুলিয়ারচর: দুর্নীতির অভিযোগে স্টা্যান্ড রিলিজ হওয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার

 

সরকারি বদলি আদেশের তোয়াক্কা না করে বৃদ্ধাঙুল দেখিয়ে ক্ষমতার দাপটে কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থাকা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারকে অবশেষে  কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে “স্ট্যান্ডরিলিজ আদেশের পরও বহাল তবিয়তে থাকা গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের খুটির জোর কোথায়?” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এর একদিন আগের তারিখ ১৩ অগাস্ট উল্লেখ করে তাকে বদলীকৃত কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের জন্য গত ১৩ অগাস্ট অপরাহৃ সময় থেকে অবমুক্ত করা হয়। ১৩ অগাস্ট তারিখ  কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অবমুক্তই শেষ সমাধান নয় দাবি করে ভুক্তভোগীরা বলেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারি খাসজমি ব্যক্তি নামে নামজারি (খারিজ), অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জালিয়াতি, প্রকাশ্যে সরকারি সম্পদ মূল্যবান গাছ বিক্রি, ঘুষ দাবি ও ঘুষ নেয়ার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যের অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি স্ট্যান্ডরিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) আদেশের পরেও অফিস ত্যাগ না করে তিনি অনিয়মের রাজত্ব চালিয়ে আসছিলেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়রা বলছিলেন তাঁর খুঁটির জোর কোথায়? কে বা কারা তাকে শেল্টার দিচ্ছেন এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল জনমনে। এরপর গত  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট বিকালে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আরামসে অফিস করছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে তরিগড়ি করে শুক্রবার রাতে অবমুক্ত করার আদেশ স্বাক্ষরিত হয়।

নাছিমা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো- গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর বাজারের সরকারি খাসজমি (এসএ দাগ-৯১৯২, বিআরএস দাগ-২৭২৫৬) অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মো. এনামুল হক নামে এক ব্যক্তির নামে নামজারির প্রস্তাব প্রেরণ করেন যা পরবর্তীতে অনুমোদিত হয়। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে গত ১২ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।

বাজারের পক্ষ থেকে দু’জনের স্বাক্ষরিত আবেদনে একমাত্র ইজারাকৃত লক্ষ্মীপুর বাজারের সরকারি খাসজমির নামজারি বাতিল করার জন্য ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পন্ন হওয়া নামজারিটি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবিও জানানো হয় ওই আবেদনে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে ওই খারিজ বাতিল করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। তবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও খাসজমি দখলের চক্রান্তে জড়িত থাকা এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কিংবা কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

শুধু খাসজমিই নয়, সাধারণ গ্রহীতাদের জমিও জালিয়াতির মাধ্যমে নামজারি (খারিজ) করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. বকুল মিয়ার অভিযোগ, সম্প্রতি তার ভাগের ৪ শতাংশ জমি নিজ নামে খারিজ করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তিনি ও তার ভাই জালাল মিয়া বিগত ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২৭৭৫ নং দলিল মূলে গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর মৌজার ৮ শতাংশ জমি যৌথভাবে ক্রয় করেন। দলিল অনুযায়ী দুই ভাই সমহারে অর্থাৎ ৪ শতাংশ করে জমির মালিক হয়ে ভোগদখলে আছেন। কিন্তু অসাধু উপায়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নাছিমা আক্তার পুরো ৮ শতাংশ জমিই জালাল মিয়ার ওয়ারিশানদের নামে খারিজ করে দেন। এতে নিজের ৪ শতাংশ জমির অধিকার হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বকুল মিয়া। এ নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বকুল মিয়া জানান, “উক্ত কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তার বৈধ জমি বিবাদীদের নামে খারিজ করে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও বিবাদিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তার প্রাপ্য ৪ শতাংশ জমির নামজারি ফেরত পেতে প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।”

সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২৩ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নাছিমা আক্তারকে তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর স্বাক্ষরিত আদেশে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ এবং অমান্য করলে তা ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ (Stand Release) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মস্থল আঁকড়ে ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

অপর দিকে গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদকে খুন করার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করেন এই কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও তাঁর সহযোগীরা। সন্ত্রাসীরা এ প্রতিনিধিকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, তাকে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য এ কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং