1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ ছয় মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের ১৩ সিন্দুক, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা; নতুন রেকর্ডের প্রত্যাশা

নূর আহাম্মদ পলাশ, চিফ রিপোর্টার।।
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

 

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খোলা হয়েছে।

শনিবার, ২৭ জুন সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে সিন্দুকগুলো খোলা হয়।

সিন্দুক খোলার পর এবার মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে সেই টাকা গণনার কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ছয় মাস ধরে জমা হওয়া দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সিন্দুক খোলা হয়েছিল। সে সময় ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর সিন্দুক খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর খোলা হওয়ায় দানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টাকা গণনার কাজে জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার  ১০৬ জন, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা,  পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন স্টাফ, জেলা প্রশাসনের ১৩ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‌্যাব ও ২০ জন আনসার অংশগ্রহণ করেন।

পাগলা মসজিদ শুধু মুসলমানদের নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছেও গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের স্থান। বহু মানুষ মনে করেন, আন্তরিক নিয়তে এখানে দান করলে মহান আল্লাহ তাদের মনের আশা পূরণ করেন। এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা সামগ্রী দান করেন। অনেকেই রোগমুক্তি, সন্তান লাভ, উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত কল্যাণের উদ্দেশ্যে মানত করে থাকেন।

শুধু অর্থ নয়, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, ধান, চাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন ধরনের উপহারও নিয়মিতভাবে দান করা হয়। এসব দান নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদের তহবিলে জমা করা হয়।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই শতাব্দী পুরোনো এই মসজিদটি ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। মসজিদের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে দেওয়ান জিলকদর দাদ খানের উত্তরসূরি আধ্যাত্মিক সাধক ‘পাগলা সাহেব’ এর স্মৃতি। তাঁর নাম থেকেই ‘পাগলা মসজিদ’ নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।

প্রতিবারের মতো এবারও সিন্দুকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ জানতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন দেশজুড়ে লাখো মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং