
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার নরসুন্দা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার, ২২ জুন বেলা টার দিকে উপজেলার সদর বাজারসংলগ্ন বরুহা ব্রিজের নিচে নদীর স্রোতে ভেসে উঠা মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত তরিকুল ইসলাম উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পংপাচিহা (জালধোয়া পাড়া) গ্রামের ওমর ফারুক মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর প্রায় ৩টার দিকে তাড়াইল সদর বাজারের দক্ষিণ পাশে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর বরুহা ব্রিজের নিচ দিয়ে একটি শিশুর মরদেহ ভেসে যেতে দেখেন পথচারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন ডিঙ্গি নৌকার সাহায্যে মরদেহটি উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে নিহত শিশুর স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
স্বজনরা জানান, নরসুন্দা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাদের বাড়ি। খেলার ছলে কখন তরিকুল নদীতে পড়ে যায়, তা কেউ বুঝতে পারেনি। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালান। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বরুহা ব্রিজের নিচে নদীর স্রোতে ভেসে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পংপাচিহা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
Leave a Reply