
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা ভূমি অফিসে জমির ফাইল যাচাই-বাছাই করছেন ইসলাম উদ্দিন আলম নামে এক খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার। উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি কর্মচারীদের টেবিলে বসে বহাল তবিয়তে নিয়মিত জমির গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দেখে থাকেন তিনি। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত টাকা না দিলে জমির খারিজের বিভিন্ন কাগজপত্রে দেখানো হয় জটিলতা, আবার টাকা দিলেই মিলে এর সঠিক সমাধান। এভাবেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জমি খারিজের নামে হাতিয়ে নেন অতিরিক্ত টাকা। অন্যথায় হয়রানির যেন শেষ নেই। ফলে সরকারি নথিপত্রের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা এখন চরম হুমকীর মুখে। এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলাম উদ্দিন আলম প্রায় ৬ বছর আগে নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কন্টিজেন্সী (অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন) ঝাড়ুদার পদে চাকুরিতে যোগদান করেন। কিন্তু বছর খানেক না যেতেই একটি অসাধু চক্রের সাথে মিলে নান্দাইল উপজেলা ভূমি অফিসে ঠাঁই নেন আলম। সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কর্মকর্তার পাশের রুমে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে টেবিলে বসে জমির গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের তদারকি ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে একজন অফিসার পদে সবার কাছে পরিচয় দিয়ে বহাল তবিয়্যতে আছেন তিনি। এ যেন দেখার কেউ নেই।
তবে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অফিসে কর্মরত অন্যান্যরা জানলেও অজ্ঞাত কারণে এর কোন বিহীত ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না কেউ। কেউ জানেনা তাঁর খুটির জোর কোথায় ? কোন পদে তার নিয়োগ, কর্মস্থল কোথায় ? এ বিষয়ে কারও কোন নজর নেই। ইসলাম উদ্দিন আলম পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের সকল তহলিসদারগণের কাজসহ জমির নামজারী ও জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ফকির জানান, কোর্টের আদেশ থাকা সত্বেও খতিয়ান সংশোধনীর ব্যাপারে প্রায় দেড় বছর যাবত দেই-দিচ্ছি বলে অহেতুক ঘুরাচ্ছেন। কাগজপত্র সঠিক থাকলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ হচ্ছে না। তার সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে ফাইলের ভাগ্য।
জাহাঙ্গীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও গাংগাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বলেন, “ইসলাম উদ্দিন আলম জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে খণ্ডকালীন নিয়োগ থাকলেও তিনি অফিসে কাজ করেন না। তিনি কাজ করছে উপজেলা ভূমি অফিসে। এছাড়া আমি কিছু জানি না।”
এ বিষয়ে ইসলাম উদ্দিন আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকুরী করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পূর্বে সেখানে কাজ করতেন, কিন্তু এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে উপজেলা অফিসে কাজ করছেন। তবে তিনি খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার পোস্টে যোগদান করেছিলেন কিনা ? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, তিনি অফিস সহায়ক হিসাবেই কাজ করছেন।
নান্দালের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ইসলাম উদ্দিন আলমের কন্টিজেন্সী (খণ্ডকালীন) চাকুরীর বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কোন পোস্টে চাকুরী করছেন এ বিষয়ে সেলফোনে বক্তব্য দিতে রাজি নন বলে ফোনকল কেটে দেন।
Leave a Reply