
বর্ষার শুরুতে মেঘনার গ্রাসে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় সড়কের নোয়াগাঁও এলাকায় বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে সড়কটিতে বর্তমানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির একপাশ ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এপার-ওপারের যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে যাত্রীদের ভাঙ্গনের পর অবশিষ্ট খাড়া ঢাল বেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু এবং নারীদের ভোগান্তির যেন কোন শেষ নেই। জরুরী রোগি ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। পথটি অত্যন্ত ঢালু ও পিচ্ছিল হওয়ায় সামান্য অসাবধানতায় পা পিছলে নিচে পড়ে মাঝে মধ্যেই ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
এ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নোয়াগাঁও,লাউড়া, নাজিরপুর,বাঘাইয়া গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করত। এই এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় হাট-বাজার, উপজেলা সদর, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতে যাতায়াতের জন্য প্রধানত এই সড়কটির ওপরই নির্ভর করে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে আঞ্চলিক সাব-মার্সিবল রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে গেলে উপজেলার অধিকাংশ মানুষই চাতলপাড় হয়ে নাসিরনগর দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কটি হঠাৎ ভেঙ্গে যাওয়ায় সমগ্র এলাকার সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রী ও এলাকাবাসীর আকুল দাবি, বর্তমানে রাস্তার ঢাল ঘেঁষে পশ্চিম দিক দিয়ে একটি অস্থায়ী পাশর্^ রাস্তা (বিকল্প পথ) তৈরি করে দিলে আপাততঃ জনগণের এই সীমাহীন দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।
কষ্টের বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত একাধিক নারী শিক্ষক জানান, প্রতিদিন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে জুতা হাতে নিয়ে খাড়া ঢাল পাড়ি দিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ে পৌছাঁতে হয়। একটু ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আমিরুল ইসলাম জানান, আমাদের গ্রামের একমাত্র প্রধান রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। গ্রামের প্রায় শতাধিত অটোচালক অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, রাস্তা নষ্ট হওয়ায় আজ তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা উপজেলা সদরে যেতে পারছেন না। রাস্তার পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনে বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিও বিলীন হয়ে গেছে। আমরা অবিলম্বে এই রাস্তা মেরামত ও নদী ভাঙ্গন রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছি।
অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বিডিচ্যানেলফোরকে জানান, বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার দ্বারা বালু ভরাটের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই রাস্তার কাজ সম্পন্ন হবে।
Leave a Reply