
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা পতিত জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ করে নজির গড়েছেন ষাইটকাহন গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন। প্রথমবারের মতো তরমুজ আবাদ করেই পেয়েছেন আশাতীত ফলন। খরচ মিটিয়ে কয়েকগুণ লাভের আশা করছেন তিনি। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের কৃষকেরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
মঙ্গলবার,১৯ অগাস্ট সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন চলতি মৌসুমে ৪০ শতক পতিত জমিতে ‘সুইট ব্ল্যাক-২’ জাতের তরমুজ চাষ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে জুনের শেষের দিকে আবাদ শুরু করেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। বর্তমানে জমিতে ১২৫০-১৩০০ গাছ রয়েছে, প্রতিটি গাছে ৩-৪টি করে তরমুজ ধরেছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন দেড় থেকে দুই কেজি। দুই সপ্তাহ পরই বাজারজাত শুরু হবে বলে আশা করছেন জসিম।
তিনি বলেন, এর আগে একই জমিতে শুধু বোরো ধান করতাম। পরে জমি ফাঁকা পড়ে থাকতো। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তরমুজ আবাদ শুরু করি। প্রথমবারেই এত ভালো ফলন পেয়ে আমি খুব খুশি। আশা করছি তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত লাভবান হবো।”
তরমুজ বাগান দেখতে প্রতিদিন স্থানীয় কৃষকেরা ভিড় করছেন। ষাইটকাহন গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া বলেন, “জসিম ভাইয়ের সফলতা দেখে আমিও আগামী মৌসুমে তরমুজ চাষ করবো।”
উপজেলার ঘাগড়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, জসিম উদ্দিনকে পতিত জমিতে তরমুজ আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। “প্রথমবারেই তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে হারভেস্টিং শুরু হবে, আর্থিকভাবে তিনি উল্লেখযোগ্য লাভবান হবেন।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর-ই-আলম বলেন, “তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। এবছর উপজেলায় ১৫ বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। কৃষকদের বাণিজ্যিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা সর্বদা পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি।
Leave a Reply