1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১১:১২ অপরাহ্ন

পাকুন্দিয়ায়  বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, সেচ ব্যাহত, হুমকিতে কৃষি 

এম এ হান্নান পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া  উপজেলায়  বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। আকাশে মেঘ জমলেই কিংবা সামান্য বাতাস শুরু হলেই পালিয়ে যায় বিদ্যুৎ। এই প্রচণ্ড তাপদাহে বিদ্যুতের ভেলকিবাজির যেন শেষ নেই।  দিন-রাতে প্রায় অর্ধেক সময় ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ।

রমজান মাসে শুরু থেকেই ইফতার, তারাবী সেহরির সময় পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে। গ্রাহকরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা  ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের হাজার হাজার গ্রাহক। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচণ্ড গরমের যন্ত্রণায় প্রতিটি বাড়িতে শোনাযায় শিশুদের আর্ত চিৎকার। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম বিপাকে। নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভোগান্তি। ঘন ঘন এমন লোডশেডিংয়ের কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়া লেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।  

এদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে   কম্পিউটার, ফ্রিজ, পানির মোটর, ফটোকপি মেশিনসহ বিদুৎ চালিত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার পথে।

এছাড়াও বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিল। একজনের বিল আরেকজনের নামে তৈরি করে বিলি করা হচ্ছে।  বিদ্যুতের নতুন সংযোগ ও খুঁটি সরানোর নামে একটি মহল হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোনে যোগাযোগ করে সংযোগ পাওয়া যেন পরম ভাগ্যের ব্যাপার।  জনগণের এমন ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এই রমজানে।

সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ও লোডশেডিংয়ের অভাবে পানি না পেয়ে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ফসলি জমি। এ অবস্থায় নিরবচ্ছিন্নভাবে জমিতে সেচের পানি পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার কৃষকেরা জানান, একদিকে বৃষ্টি নেই, অন্যদিকে লোডশেডিং। এতে জমিতে সময় মতো ও পরিমাণ মতো সেচ দিতে পারছেন না তারা। ফলে সব ধরনের ফসলসহ শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি। অন্যদিকে ঢেঁড়স, করলা, শসা, বেগুন, কুমড়া, মরিচ, পটলসহ অন্য সবজি উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। 

উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষ করেছি। কিন্তু সেচের অভাবে গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলন কমে যাচ্ছে। আবার পোকাও ধরছে। এ অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছি না! মনে হচ্ছে এবার খরচ উঠবে না। আমাদের পাশের অনেক কৃষকেরই এমন অবস্থা। তাদের অন্যান্য ফসলও হুমকির মুখে পড়েছে।’ 

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় বর্তমানে ২২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল করা হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই প্রকৃতিতে প্রচণ্ড দাবদাহ বিরাজ করছে। বৃষ্টি না থাকায় ইরি-বোরো ক্ষেতে কৃষক প্রয়োজনীয় সেচ দিতে না পারায় সমস্যায় পড়েছেন। ফলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে। বোরোর ফলনও কমে যেতে পারে। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে বর্তমানে টমেটো  চাষিসহ অন্য ফসল চাষিরাও জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। চারা গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। ফল ঝরে পড়ছে। 

এ বিষয়ে  কিশোরগঞ্জ  পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাকুন্দিয়া   জোনাল অফিসের ডিজিএম শহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘দেশে চলমান গ্রীষ্ম মৌসুমে তীব্র দাবদাহ এবং পবিত্র রমজান মাসের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা অত্যধিক বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং