
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস জোর দিয়ে বলেছে যে তারা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিবেনা যদি না ইসরায়েল পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
হামাস ইসরায়েলের সাথে বন্দি বিনিময় চুক্তি গ্রহণ করবে যদি তারা পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে সম্মত হয়।
সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খলিল আল-হাইয়া কাতার ভিত্তিক আল জাজিরা টিভির সাথে একটি সাক্ষাৎকারে একথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ইসরায়েলি দখলদার বন্দীদের প্রত্যাবর্তনের তিনটি মূল্য রয়েছে। প্রথমটি হল আমাদের জনগণের ত্রাণ এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করা, দ্বিতীয়টি হল সামরিক আগ্রাসনের অবসান, এবং তৃতীয়টি হল একটি বাস্তব বন্দি বিনিময় চুক্তি যা আমাদের ১০ হাজার বন্দিকে মুক্ত করবে।। তিনি বলেন, ইসরায়েল গাজা থেকে সরে আসতে অস্বীকার করে আসছে এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করছে।
শনিবার, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাবকে ” দুঃস্বপ্ন” বলে বর্ণনা করেছেন।
আল-হাইয়া বলেন, নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে প্যারিসের চুক্তিতে যে বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন তা থেকে পিছিয়ে গেছেন ।
একটি ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে হামাস গাজা যুদ্ধবিরতির জন্য একটি তিন-পর্যায়ের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে যার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধে ১৩৫ দিনের যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, কাতার এবং মিশরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গত মাসে প্যারিস বৈঠকের সময় মূল কাঠামো চুক্তিটি তৈরি হয়েছিল।
ইসরায়েল বিশ্বাস করে যে গাজায় হামাসের হাতে ১৩৪ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় মারাত্মক আক্রমণ শুরু করেছে। পরবর্তীতে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে প্রায় ২৯ হাজার ৯২ জন নিহত হয়েছে, এবং প্রায় ৬৯ হাজার ২৮ জন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতিসহ আহত হয়েছে।
গাজার উপর ইসরায়েলি যুদ্ধ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে ভূখণ্ডের ৮৫ ভাগ জনসংখ্যাকে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে ছিটমহলের ৬০ ভাগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েল গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। জানুয়ারিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে তেল আবিবকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আনাদোলু নিউজ এজেন্সি থেকে অনুদিত
Leave a Reply