1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

তদন্তে কিশোরগঞ্জের ‘অলওয়েদার সড়ক’ প্রকল্প, জলাবদ্ধতা, ফসলহানি ও জীববৈচিত্র্য বিপর্যয়ের অভিযোগ

এম এ জলিল, স্টাফ রিপোর্টার।।
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নির্মিত ১ হাজার ২৯৪ কোটি টাকার ‘অলওয়েদার সড়কপথ নির্মাণ প্রকল্প’ নিয়ে তদন্তে নেমেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। পানি প্রবাহে বাধা, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, বোরো ফসলহানি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির অভিযোগে সমালোচিত এ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের সাত জেলার ৩৯টি উপজেলার অন্তত ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর উঠতি বোরো জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের নিম্নাঞ্চল।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের অলওয়েদার সড়ক প্রকল্প পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করায় জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

গত ৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের অলওয়েদার সড়ক পানিপ্রবাহে বাধা দিচ্ছে কি না, তা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’

বাংলাদেশ মৎস্য ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জে এ সড়ক নির্মাণের আগে যেখানে বছরে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন মাছ উৎপাদন হতো, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টনে। পরিবেশবিদদের দাবি, হাওরের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাছের উৎপাদন কমে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অলওয়েদার সড়কসংশ্লিষ্ট চারটি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৩৮ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯৪ কোটি টাকায়, যা মূল প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ১০৩ শতাংশ বেশি। এ ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর দাবি করেন, প্রকল্প থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ছাড়াও প্রভাবশালী মহল শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিশোরগঞ্জের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও পরে ময়মনসিংহ জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রাশেদুল আলম। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং ব্রিজ-কালভার্ট সম্প্রসারণের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছিল। অনিয়ম বা লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়।

বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের অনেক পরে তিনি কিশোরগঞ্জে যোগ দিয়েছেন। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

হাওরাঞ্চলে এ সড়কের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৩ সালে সিলেট ও সুনামগঞ্জে অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতার পর তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান মন্তব্য করেছিলেন, ‘আগে জানলে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতাম না।’

গত বছরের ১৯ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘হাওর অঞ্চলে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ প্রকল্পের সমালোচনা করেন। সেখানে সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, অলওয়েদার সড়ক হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যতম কারণ। তিনি এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।

হাওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নের নামে জলপ্রবাহ, মাছের বিচরণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পুরো অঞ্চলকেই দিতে হয়। তাই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট সবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং