
কিশোরগঞ্জে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) স্বাক্ষর জাল করে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মিথ্যা, বানোয়াট মামলার এজহারে নাম দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি উঠেছে জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল হক শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন আলী আকবর হৃদয় ও ভুক্তভোগী শাহনেওয়াজ সিরাজী সিহাবের পিতা।
শাহনেওয়াজ সিরাজী সিহাবের পিতা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ মডেল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলার (নম্বর ০৭) এজাহার হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ দেখিয়ে একটি ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়। এরপর মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আলী আকবরের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেয়াসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী মোঃ আলী আকবর হৃদয় বলেন,শিহাব এবং আরো ১৪ জনকে আসামি দেখিয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে স্ক্যান করে মোঃ আবুল কালাম ভুইয়া বিপি- ৮১০৬৬৯৯৭৭ অফিসার ইনচার্জ মডেল থানা এর স্বাক্ষর জাল করিয়া একটি ভুয়া এফ আই আর তৈরী করেন , যাতে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার এফ আই আর নং ০৭(০৯)২৬ তাং ০৮/০৯/২০২৬ ইং একটি রাজনৈতিক মামলা হিসেবে দেখানো হয়।
পরবর্তীতে উক্ত মামলার কথা বলে আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে বলে যে, ওই মামলা হইতে নাম কর্তন করে দিবেন বলে আমাকেসহ প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা দিতে হবে। এমতাবস্থায় এই মামলায় আসামি মুহাম্মদ কবিরের কাছ থেকেও এক লাখ টাকা গ্রহণ করে এবং বাকি আসামিদের কাছ থেকেও টাকা আনিয়ে দেয়ার জন্য বলে। এক লাখ দেয়ার পর পরবর্তীতে আমরা কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারি যে এটি একটি ভূয়া এফ আই আর।
এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট এনামুল হক শেখের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেও জানান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতরা।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও বিচার দাবি করেন।
Leave a Reply