
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লী ইউনিয়নে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি খনন ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালী একটি চক্রের এমন কর্মকাণ্ডে বিলীন হওয়ার পথে এক কৃষকের পৈত্রিক সম্পত্তি।
সোমবার, ২৪ অগাস্ট এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. মোফাজ্জল হোসেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পালাহার বালুয়াকান্দা গ্রামের মৃত জামিন হোসেনের ছেলে মোফাজ্জল হোসেনের পৈত্রিক ও স্বত্ব দখলীয় ৩০ শতাংশ আবাদি জমি জবরদখলের পাঁয়তারা করছে প্রতিবেশী সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সার্জেন্ট আল আমিন সবুজ (৪৫) ও তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম সজীব (২১)।
গত ১৮ অগাস্ট থেকে বিবাদীগণ সরকারি আইন অমান্য করে মোফাজ্জল হোসেনের জমির সীমানা ঘেঁষে একটি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি খনন কাজ শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুর পুনঃখননের নামে এমনভাবে মাটি তোলা হচ্ছে যে, মোফাজ্জল হোসেনের উঁচু ফসলি জমির মাটি ভেঙে ওই গর্তে ধসে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ তোয়াক্কা না করে এই মাটি ড্রেজারের পাইপের মাধ্যমে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। এতে শুধু ওই কৃষকের জমিই নয়, আশেপাশের আবাদি জমিও হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া তারা মানুষকে নামমাত্র টাকা দিয়ে জোরপূর্বক তাদের জমিজমা দখল করে নিচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এ বিষয়ে ইউএনও ও ওসির নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অপরদিকে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম সজীব ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা আমাদের জায়গা থেকে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করছি। পাশের জায়গাটিও আমাদের ক্রয়কৃত, কিন্তু তারা আমাদের লিখে দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানান, “অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিজমি নষ্ট করে অবৈধভাবে ড্রেজার চালানোর কোনো সুযোগ নেই।”
Leave a Reply