
ময়মনসিংহের নান্দাইলে নারী স্বাস্থ্য, বয়ঃসন্ধিকালীন শিক্ষা ও অধিকার রক্ষায় চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনে মাঠ পর্যায়ে সফর করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফ্রেডরিক ইনজা।
রবিবার, ৩ মে উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের পূর্ব দরিল্লা গ্রামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইয়ুথ প্ল্যানেট’-এর আয়োজিত কিশোরী এবং নারীদের এক সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফ্রান্স দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাটাশে মিস এমিলি পালাহুয়ান।
পরিদর্শনকালে অতিথিরা ইয়ুথ প্ল্যানেট পরিচালিত ‘এসআরএইচআর অ্যাডোলেসেন্ট স্কুল’ পরিদর্শন করেন এবং গ্রামীণ নারীদের মাসিককালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এসময় প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ২৪০ জন নারীর মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্ল্যানেটে ৭শ’ জন নারীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং এর আওতায় ৪শ’ নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় ও শিক্ষকদের ‘ট্রেনার’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক নারী, কিশোরী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফ্রেডরিক ইনজা বলেন, “বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা এবং নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় ফ্রান্স দূতাবাস বদ্ধপরিকর। ইয়ুথ প্ল্যানেটের সাথে আমাদের এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।” তিনি গ্রামীণ পর্যায়ে মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক জড়তা ভেঙে নারীদের সচেতন করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
ইয়ুথ প্ল্যানেটের নির্বাহী পরিচালক এবিএম মাহমুদুল হাসান বলেন, “ফরাসি দূতাবাস কর্মীদের এই সফর স্থানীয় কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। এটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের কিশোরী ও নারীদের জন্য মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।” অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ফ্রান্স দূতাবাসের অর্থায়নে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ‘মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সুনিশ্চিত করণ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
খন্দকার ফারজানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইয়ুথ প্ল্যানেটের এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর প্রিয়া, দরিল্লা গয়েশপুর আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক আব্দুল হামিদ রতন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাদেক, সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, শাপলা আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফরাসি দূতাবাসের প্রতিনিধিদের হাতে স্থানীয় কমিউনিটির পক্ষ থেকে তৈরি একটি স্মারক ও ইয়ুথ প্ল্যানেটের পক্ষ থেকে ‘কৃতজ্ঞতাপত্র’ তুলে দেয়া হয়।
Leave a Reply