1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে তলিয়েছে ২ হাজার হেক্টর জমি

মো.মিজানুর রহমান শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার।।
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

 

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরোধানের জমির বোর ফসল তলিয়ে গেছে। এতে এ পর্যন্ত মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার হাওরাঞ্চলে, বিশেষ করে ইটনা উপজেলার হাওরে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

শনিবার, ২ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে শুধু ইটনা উপজেলাতেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার রোদ থাকলেও আজ শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও জমি তলিয়ে গেছে।

জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস জানায়, ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে ৩.০৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৭৩ মিটার, বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৪৫ মিটার, যা ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার কম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখনো সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০৯ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। গতকাল রোদ থাকলেও আজ সারাদিনের বৃষ্টিতে খলায় রাখা ধান শুকাতে পারছেন না। এতে ধানে চারা গজানো ও পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং