1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

হোসেনপুরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা: ব্যক্তিস্বার্থে প্রকল্প ব্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে

হুমায়ূন রশীদ জুয়েল।।
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গৌরিপুর-আনন্দগঞ্জ-মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-হোসেনপুর  মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ” প্রকল্পের চলমান কাজের অংশ হিসেবে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সড়ক বিভাগ কর্তৃক কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে প্রস্তাবিত দুইটি এল,এ এর আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ চলমান রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা মো. তানভীর আহমেদ সুমন কর্তৃক  এল.এ মামলা নং-১৮/২০২২-২৩ এর আওতায় ধুলিহর মৌজায় নতুন দাগ সংযোজন ও অধিগ্রহণ নকশা সংশোধনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সড়ক বিভাগের সরেজমিন তদন্তে ড্রেন নির্মাণ এবং অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যক্তি স্বার্থে প্রকল্প ব্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায় যে, হোসেনপুর উপজেলার ধুলিহর মৌজার বি.এস দাগ নং ১৩০৬, ১৩০৩ ও ১৩০২—এই তিনটি দাগ প্রকল্পের অধিগ্রহণ নকশায় বিস্তারিতভাবে নতুন করে যুক্ত করার আবেদন করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. তানভীর আহমেদ সুমন। তার এই আবেদনের পর সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় আমিন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে পরিদর্শন ও পরিমাপ সম্পন্ন করেন। যদি অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী সেখানে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করতে হয়, তবে ৩৪৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬ ফুট প্রশস্ততায় নতুন করে প্রায় ৪.৭৭ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আর ওই ভূমির ওপর বর্তমানে চারতলা ভবনসহ একাধিক স্থায়ী স্থাপনার অংশ থাকায় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এতে প্রকল্পের অধিগ্রহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। নতুন সম্ভাব্য অধিগ্রহণের আওতাভূক্ত স্থাপনার ক্ষতিপূরণের অধিকাংশ অর্থ, আবেদনকারী স্থানীয় বাসিন্দা, মো. তানভীর আহমেদ সুমন প্রাপ্ত হবেন।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, উক্ত স্থাপনা সমূহের মধ্যে মো. তানভীর আহমেদ সুমনের মালিকানাধীন মেসার্স হাজী আকবর অটো রাইস মিল বিদ্যমান, যার বিপরীতে তিনি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, হোসেনপুর শাখা থেকে ঋণ নিয়ে ইতিমধ্যে ঋণ খেলাপি হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্রাহকের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।

মাঠপর্যায়ে তদন্তে দেখা যায়—উক্ত অংশে সওজের নিজস্ব ভূমির মধ্যেই রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং অনুমোদিত নকশায় সড়কের ওই স্থানে কোনো ড্রেন নির্মাণের নির্দেশনা নেই। রিজিড পেভমেন্ট থাকায় আলাদা ড্রেনের প্রয়োজনও নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে।

এদিকে মো. তানভীর আহমেদ সুমন, নতুন দাগ সংযোজন ও অধিগ্রহণ নকশা সংশোধনের লক্ষ্যে ড্রেন নির্মাণের অজুহাতে  হোসেনপুর পৌরসভার মাধ্যমে সড়ক বিভাগ বরাবর পত্র প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, বি.এস দাগ ১৩০২, ১৩০৩ ও ১৩০৬; এই তিন দাগে ২–৬ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত সওজের নিজস্ব ভূমি রয়েছে, যা জরুরী পানি নিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট। তবে নতুন অধিগ্রহণ ব্যতীত উক্ত অংশে কোন কাজ করতে মো. তানভীর আহমেদ সুমন বাধা প্রদান করেছেন মর্মে জানা যায়। অপ্রয়োজনীয় অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণ অর্থ আদায়ে উক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে জোর তদবীর করছেন মর্মেও জানা যায়। ফলে প্রকল্পের চলমান অধিগ্রহণ কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং