
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভৈরব ও কুলিয়ারচরে দিনব্যাপী সরকারি সফরে এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
শনিবার, ২৯ অগাস্ট সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরকালে তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়ার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের মাঝে হুইলচেয়ার, দুঃস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও চারাগাছ, কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢেউটিন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
সকাল ১০টায় ভৈরব বাজার ফাঁড়ি চত্বরে ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে পুরো বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন সৈকতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে আল আমিন হত্যার বিচার দাবি করলে প্রতিমন্ত্রী স্বজনদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বেলা ১১টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, স্কুল ব্যাগ, চারাগাছ ও স্প্রে মেশিন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে টিন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
পরবর্তীতে দুপুরে ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
এসময় ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক কে.এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মুজিবুর রহমান, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ জাহিদুল হক জাবেদসহ জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কৃতি শিক্ষার্থী, উপকারভোগী ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিকেল ৪টার দিকে কুলিয়ারচর পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভা কার্যালয়ে কুলিয়ারচর বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুলিয়ারচর মৎস্যবাজার জামে মসজিদ এবং বেগম নুরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এ সময় বেগম নূরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরনের (জাতীয়করন) দাবি জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান।
বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের মাঝে হুইলচেয়ার ও শ্রবণ সহায়ক উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম. এ হান্নান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার, উপজেলা কৃষি অফিসার মর্জিনা আক্তার, কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুসাব্বির হোসেন, কুলিয়ারচর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. ফজলু হক, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম আলী, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাহবুবা সিদ্দিকী ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
Leave a Reply