1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

হাওরাঞ্চলের লাখো যাত্রীর স্বস্তি: বালিখলা ঘাটে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক যাত্রী ছাউনি

নূর আহাম্মদ পলাশ, চিফ রিপোর্টার।।
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক যাত্রী ছাউনি। সোমবার, ৮ জুন দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিতব্য  এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, বালিখলা ফেরিঘাট হাওরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু এতদিন যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় বা বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।

নিয়মিত যাত্রী মো. আব্দুল কাদির বলেন, বৃষ্টি কিংবা তীব্র রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। যাত্রী ছাউনি নির্মিত হলে ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ বিরাজ করছে। তিনি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও শৌচাগার নির্মাণেরও দাবি জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষ প্রতিদিন বালিখলা ফেরিঘাট ব্যবহার করেন। তাদের যাতায়াতকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে এই যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নিয়ে সরকারি জায়গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রী ছাউনির পাশাপাশি টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা রাখা হবে। এতে সাধারণ যাত্রীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাও সহজ হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে। যাত্রীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, জেলা পরিষদের উদ্যোগে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫ থেকে ২০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ৩০ থেকে ৪০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে যাত্রী ছাউনিটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা আরও সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং