
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বাদির পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আসামিপক্ষের অব্যাহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা ১৬ মে নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৮২৮) করেছেন।
অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় নান্দাইল পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের চারি আনিপাড়া এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে জনৈক মতি মাস্টারের মালিকানাধীন একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় প্রতিবেশী মো. রামিম সরকার (২২)। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে প্রাণে বাঁচে। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোড অনুযায়ী নান্দাইল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত রামিম সরকারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি রামিম সরকার জেলহাজতে থাকলেও তার আত্মীয়-স্বজনরা মামলা তুলে নিতে বাদির পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি প্রদান করছে। গত ১৪ মে সন্ধ্যায় অভিযুক্তের পিতা মো. আহাদ সরকার (৫২), চাচা মো. সাহিদ সরকার (৫৫) এবং মোছা. শারমিন আক্তারসহ একদল লোক বাদির বাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা সাফ জানিয়ে দেয়, মামলা তুলে না নিলে বাদি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে।
মামলার বাদি সরকার জানান, “আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করায় এখন আমি ও আমার পরিবার জানমালের শান্তিতে নেই। আসামিরা প্রভাবশালী ও উশৃঙ্খল প্রকৃতির হওয়ায় আমরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জানমালের নিরাপত্তা এবং দোষিদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।”
অপরদিকে অভিযুক্ত আসামির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, সাধারণ ডায়েরিটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।
Leave a Reply