
জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ ও বিজিবির লাঠিচার্জ ও গুলিতে শহিদ হওয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার এক তরুণের মরদেহ দাফনের প্রায় ২০ মাস পর কবর থেকে আদালতের নির্দেশে উত্তোলন করা হয়েছে। শহিদ আবু সুফিয়ান রাব্বি (১৯) উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চরপুবাইল গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার,৮ এপ্রিল দুপুরে চরপুবাইল গ্রামের চকপাড়া মোড় সংলগ্ন একটি মসজিদের পাশের কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রাব্বির মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে একইদিন সন্ধ্যায় মরদেহ পুনরায় দাফন করা হয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাব্বি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করতেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাওনা এলাকায় ছাত্র-জনতার আনন্দ মিছিল বের হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাব্বি ওই মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলটি মাওনা শহিদি মোড় এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় ছাত্র-জনতা বিজিবি সদস্যবাহী একটি বহরকে আটকে দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা লাঠিচার্জ ও গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন রাব্বি।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাওনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ দিন পর ২০২৪ সালের ১৬ অগাস্ট তার মৃত্যু হয়। পরদিন ১৭ অগাস্ট ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ গ্রামের বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও মানবাধিকার কর্মী লেবু মিয়া বাদি হয়ে শ্রীপুর আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবু নোমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে লাঠিচার্জ ও ছোঁড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন আবু সুফিয়ান রাব্বি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দাফন করায় আদালত কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী বুধবার দুপুরে রাব্বির মরদেহ তোলা হয়।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাঃ সাব্বির হোসাইন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলনের করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পুনরায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a Reply