
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ–-১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনে দিন দিন উত্তাপ বাড়ছে। সম্ভাব্য ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাসে ভোটের মাঠ জমে উঠেছে, একই সঙ্গে জটিল হচ্ছে নির্বাচনী সমীকরণ। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও কর্মী–সমর্থকদের প্রচারণায় সরগরম পুরো এলাকা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৩ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র থাকছে ১৮৯টি এবং বুথ সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে নতুন করে ৮৪৯টি গোপন কক্ষ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী এ সংসদীয় আসনে দুটি পৌরসভা—কিশোরগঞ্জ ও হোসেনপুর—এবং মোট ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদরে ১১টি ও হোসেনপুরে ৬টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের ভেতরে বিভক্তি দেখা দিলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঐক্যের ডাক জোরালো হচ্ছে। অপরদিকে বিএনপির সাবেক মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোরগ প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিগত দুই নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সজীব বলেন, “এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও মোরগ প্রতীকের মধ্যেই হবে বলে মনে হচ্ছে।” বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় ভোটের হিসাব নতুন করে কষা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
এদিকে ১০ দলীয় জোটের শরিক দুইটি ইসলামী দলের প্রার্থীও সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী মাঠে সরব রয়েছেন। তাদের পাল্টাপাল্টি প্রচারণায় ইসলামী ধারার ভোটারদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময়ে এসে বড় দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের সুর শোনা যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা মান–অভিমান ভুলে এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করছেন। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত তারিখে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
Leave a Reply