
একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, এখন বিএনপি-জামায়াতের মঞ্চে পুরস্কার নিচ্ছেন, এমন চিত্রই এখন আলোচনায় কিশোরগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান রোকেলকে ঘিরে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের তিন মামলার আসামি এই সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পদপ্রার্থী সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছেন নতুন ভূমিকায়। এই রোকেল ছিলেন ইটনা উপজেলার এলংজুড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি।

ছবি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হাওরে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে
অনুষ্ঠানটির আয়োজককে দেখা গেছে সাবেক আমলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে। আলোচ্য রোকেলকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করে আওয়ামী লীগের সাথে একটা গোপন লিংক তৈরী করে রাখার একটি অপচেষ্টা বলে অনেকেই মনে করছেন।
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ জেলায় এক অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে দেখা গেছে তাকে। ওই একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামের জেলা আমির ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবু হানিফ। তিনিও পুরস্কার তুলে দেন রোকেলের হাতে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন সাবেক এমপি তৌফিকের ঘনিষ্ঠ সহচর ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘পিএস’ নামে এক ব্যক্তি।

ছবি: বঙ্গভবনে এমপি তৌফিক তার স্ত্রীর সাথে
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত রোকেলের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে “নৈতিকতার পতন ও সুযোগসন্ধানী রূপান্তরের” প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেলের নাম তিনটি মামলা আমলে নেয়া হয়। সে সময় তিনি ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী এবং সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা।

ছবি: বঙ্গভবনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে
এলাকার কয়েকজন জানান, রোকেল একসময় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছেলে এমপি তৌফিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী হিসেবেও কাজ করেছেন। পরে নানা বিতর্ক ও মামলার পর তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে বিএনপি ঘরানার রাজনীতির ছায়ায় আশ্রয় নেন।
সেই প্রভাবশালী মহলের চাপে এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা। রাজনৈতিক মহলে এখন জোর গুঞ্জন একসময়ের ছাত্রলীগ নেতা, হত্যা মামলার আসামি কীভাবে বিএনপি ও জামায়াতের সাথে একই মঞ্চে স্থান পেলেন?
এ প্রশ্নের উত্তর মিলছে না কারও মুখে, কিন্তু ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নৈতিক স্খলনের এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply