1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

নদীপাড়ে শরতের কাশফুলে বিমোহিত প্রকৃতি প্রেমীরা

উজ্জ্বল সরকার, স্টাফ রিপোর্টার, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৬১ বার পড়া হয়েছে

 

শরৎকাল মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, হালকা রোদেলা আবহাওয়া আর মাঠে-ঘাটে শুভ্র কাশফুলের অপরূপ দৃশ্য। শরৎ প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে কাশফুলের সৌন্দর্যে। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী কাশবনে ভিড় জমাচ্ছেন নানা বয়সী মানুষজন।

কাশফুলের সাদা সমারোহ যেন চারপাশে এক স্বপ্নিল পরিবেশ তৈরি করে। বিকেলের শেষ আলো যখন নদীর বুকে ঝিলিক খেলে যায়, তখন কাশবনের শুভ্র সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছুটে আসছেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার মেলবন্ধন হোসেনপুরের ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই কাশবন। বাতাসের হালকা ছোঁয়ায় কাশফুলগুলো একসাথে দুলতে থাকে, যেন সাদা ঢেউ খেলছে। প্রকৃতি প্রেমীরা এখানে এসে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন, আবার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করছেন।

সরেজমিন এক বিকেলে দেখা যায় শত শত মানুষ কাশবনে ঘুরতে এসেছেন। কারো হাতে ক্যামেরা, কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে প্রকৃতির সঙ্গে একাকার হচ্ছেন। ছোটদের আনন্দ, বড়দের প্রশান্তি—সব মিলিয়ে কাশবন যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

সদর উপজেলা থেকে আসা কলেজছাত্রী ফারিয়া ইসলাম নাবা বলেন,’মানসিক শান্তি আর কাশফুলের শুভ্রতা উপভোগ করতে এখানে এসেছি। প্রতিবছর শরতে এখানে কাশফুল ফোটে। পাশে ব্রহ্মপুত্র নদ, ওপরে নীল আকাশ, সব মিলিয়ে অসাধারণ এক পরিবেশ।’

প্রকৃতিপ্রেমী মো.ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘কাশফুল ছাড়া শরৎ অপূর্ণ থেকে যায়। এখানে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পর্যটকরা আসেন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো অনেকে ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়, এতে সৌন্দর্য নষ্ট হয়।’

আরেক পর্যটক মো. রাকিব মিয়া জানান, ‘কাশবনের পাশে ব্রহ্মপুত্রের জলে নৌকা ভ্রমণ আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে সন্ধ্যার পর এখানে নিরাপত্তা তেমন থাকে না, তাই আগে ফিরে যাই।’

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কাশগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কাশ ব্যবহার হয় ঘরের চালা বানাতে, পানের বরজে, এমনকি সবজিবাগানের বেড়ায়। মাটিধস রোধেও কাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া আখের অঙ্কুরোদগমে কাশের বিশেষ উপকারিতা আছে। কাশ থেকে তৈরি হয় বিশেষ ধরনের কাগজের মণ্ডও।

স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আগে শরৎ এলেই কাশবন ফুটত, কিন্তু তখন এত মানুষ আসতো না। এখন মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে আগ্রহী হচ্ছে। এটা ভালো বিষয়, তবে আমাদের উচিত প্রকৃতিকে রক্ষা করা।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ক্রমেই প্রকৃতির কাছে ফিরছে। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের মতো নদীবিধৌত এলাকায় প্রকৃতি নতুন করে আবিষ্কৃত হচ্ছে। কাশবন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতিদিনই এখানে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। অনেকে সেলফি তুলছেন, কেউ পরিবারের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউবা ছোট নৌকায় করে নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছেন। শরতের আকাশ, ব্রহ্মপুত্রের জল আর কাশফুল সব মিলিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে অপূর্ব এক রূপকথার জগৎ।

পর্যটকদের অনেকে জানান, কাশফুলের এই অপরূপ সৌন্দর্য দীর্ঘস্থায়ী রাখতে হলে কাশবনকে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, যেন ফুল নষ্ট না হয়। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়ানো জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং