
একজন মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও নিরীহ এক বিধবা মহিলার ক্ষেতের ফসল কেটে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারী প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।
তিনি নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চর উত্তরবন্দ গ্রামের মৃত রোপ্তন আলীর ছেলে।
স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে বিধবা মহিলা রোকেয়া খাতুন সম্পর্কে শিক্ষকের ভাই বৌ। তবে অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক রুহুল আমিন সম্পত্তি কম পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ওই বিধবা মহিলার স্বত্ব দখলীয় জমিতে রোপন করা ধানের চারা গাছ কেটে ফসল বিনষ্ট করেছেন। শুধু তাই নয়, এর পূর্বেও একাধিকবার বিধবার জমিতে আবাদ করা লাউ, করলাসহ অন্যান্য ফসল বিনষ্টের অভিযোগ করেছেন বিধবা রোকেয়া খাতুন।
কিন্তু এসব কথা অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক রহুল আমিন জানান, তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির বন্টনে তাকে ঠকানো হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার দরবার-সালিশ হলেও এর কোন সুরাহা হয়নি।
বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর রোকেয়া খাতুন বাদি হয়ে রুহুল আমিনসহ আরও দুইজনকে আসামি করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিন পরির্দশনে জানা গেছে, চর উত্তরবন্দ গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের স্ত্রী বিধবা রোকেয়া খাতুনের সাথে বিগত ৫ বছর ধরে রুহুল আমিন মাস্টারের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ওই জমির এক অংশে ধান গাছের চারা কেটে নেয়া হয়েছে। ধানের চারার গোড়াগুলো পড়ে আছে স্বাক্ষী হয়ে। নিরীহ রোকেয়া খাতুন জানান, শুক্রবার (২৯ অগাস্ট) সকাল ৯টার দিকে তিনি তার ২০ শতক জমিতে রোপন করা ধান ক্ষেত দেখতে যান। এসময় তিনি ওই ক্ষেতে শিক্ষক রুহুল আমিন ও শিক্ষকের দুই ছেলে ইমরান এবং রিফাদকে ধানের চারা গাছ ছিঁড়তে ও কাটতে দেখতে পেয়ে বাধা দেন। ফসল বিনষ্ট করার দৃশ্য দেখে ওই বিধবা চিৎকার শুরু করলে শিক্ষকসহ তার ছেলেরা চারাগাছগুলো বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় এবং এসময় বিধবাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা কলিল মিয়া, কুলসুম আক্তার, হেলিম উদ্দিন, কাজল মিয়া, মোসলেম উদ্দিনসহ আরও অনেকেই জানান, রহুল আমিন মাস্টার তার আপন ভাইদের সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ আছে। তবে একজন মানুষ গড়ার কারিগর হয়ে, অমানুষের মতো কাজ করেছেন তিনি। জমির ভাগ থাকলে অবশ্যই তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, কিন্তু ফসল বিনষ্ট করা তার ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে রোকেয়া খাতুন বলেন, “রুহুল আমিন মাস্টার যদি ভালোই হতো, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে কেন ? আমার স্বামী মারা যাওয়ায় জোরপূর্বক জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন মাস্টার এ অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাকে পৈত্রিক সম্পত্তিতে ঠকানো হয়েছে। এছাড়া ওই জমির বিষয়ে তিনি জিডি করেছেন। পরিশেষে সংবাদটি প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন ওই প্রধান শিক্ষক।
Leave a Reply