
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের অবিস্মরণীয় ভূমিকা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার, ৩ অগাস্ট উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা গণমাধ্যমকে আন্দোলনের একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন, যা মানুষের কণ্ঠস্বরকে ধারণ করে আন্দোলনকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রাথমিক পর্যায়ে যখন ছাত্রসমাজ তাঁদের শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন তাঁরা দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেন। এই সময় গণমাধ্যম, বিশেষত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া আন্দোলনের খবর দ্রুত জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। এর ফলে আন্দোলনটি কেবল ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বৃহত্তর জন-আন্দোলনে রূপ নেয়।
বক্তারা আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াও জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং আন্দোলনকে সংগঠিত করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। গণমাধ্যমের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচারের কারণেই আন্দোলনটি দ্রুতগতি লাভ করে এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন লাভে সক্ষম হয়। এটি কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং গণমাধ্যমের সহায়তায় তা একটি গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
আলোচনা সভায় সাংবাদিকরা তাঁদের আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা এবং স্মৃতিচারণ করেন। সাংবাদিকরা তাঁদের স্মৃতিচারণে ৪ আগস্ট ঈশ্বরগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হওয়া হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সেদিন সাংবাদিকদের রক্তে রাজপথ লাল হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনায় সাংবাদিক আতাউর রহমান ও রুহুল আমিন রিপন মারাত্মকভাবে আহত হন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওবায়দুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূইয়া মনি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতা হাসানুর রহমান সজীব ও সাকিবুজ্জামান সাকিব।
এছাড়াও ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, সাবেক সভাপতি ফেরদৌস কুরাইশী টিটু, আন্দোলনে আহত সাংবাদিক রুহুল আমিন রিপন, সাংবাদিক উবায়দুল্লাহ রুমি, মহিউদ্দিন রানা, এহসানুল হক, আরিফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান শুভ, হুমায়ুন কবীর, রেজাউল করিম রাজু, জাহিদ হাসান, ইসতিয়াক আহমেদ ইসহাক, হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন ।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূইয়া মনি বলেন, গণমাধ্যম কেবল খবর পরিবেশন করে না, গণমাধ্যম সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণমাধ্যম সেই দায়িত্বটি পালন করেছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, গণমাধ্যম যেন তাঁরা তাঁদের পেশাগত সততা ও নৈতিকতা ধরে রেখে সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যান। এ সভার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের অসামান্য অবদান এবং সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
Leave a Reply