1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

মসজিদ ও মাদ্রাসার টাকা কোটি কোটি আত্মসাতের অভিযোগ ভাইস প্রিন্সিপাল রাসেলের বিরুদ্ধে 

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর,কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৪
  • ২৭২ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও জামিয়া আরাবিয়া নুরুল উলুম কুলিয়ারচর মাদ্রাসার কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাসেমী রাসেলের বিরুদ্ধে। গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। 

কুলিয়ারচর বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ওই দুটি প্রতিষ্ঠান কুলিয়ারচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও জামিয়া আরাবিয়া নরুল উলুম মাদ্রাসা। জানা যায়, উক্ত মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ৪৩ লাখ টাকারও বেশি। 

৪৩ লাখ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল রাসেলের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনে কুলিয়ারচর পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে এক দীর্ঘ পোস্ট দেন। পোস্টটি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়। 

সেই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাশেমী রাসেল বিগত ১৭ বছর ধরে মাদ্রাসার দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আত্মসাৎ বিষয়ে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, কুলিয়ারচর বাজারে ওই মাদ্রাসার প্রায় ৪০টি দোকান রয়েছে। সে সকল দোকান থেকে মাসে ৪ লাখ টাকা ভাড়া আসে। এছাড়া মাদ্রাসায় যে সকল ছাত্র পড়াশোনা করে তাদের কাছ থেকেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান বিল নেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন মাদ্রাসার বিদ্যুৎ বিল ৪৩ লাখ টাকা বকেয়া থাকবে? তবে এত টাকা গেলো কোথায় বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরে দোকান ভাড়া বাবদই ৮ কোটি টাকার উপর উত্তোলন হয়েছে। এসব টাকা কোথায়? সেই টাকার সঠিক হিসাব তিনি কুলিয়ারচর বাসীর পক্ষে জানতে চেয়েছেন তার পোস্টে। 

পোস্টে তিনি পলাতক মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাশেমী রাসেলের বিচার দাবি করেন। 

বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় গত ২ অক্টোবর বুধবার আবাসিক প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে লোকজন এসে মাদ্রাসার দুইটি ও মসজিদের একটি এনালগ মিটারের বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে বকেয়া বিল যাতে আর বৃদ্ধি না পায় সে জন্য প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দিয়ে যায়।

এ নিয়ে মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাশেমী রাসেলের প্রতি মুসুল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। 

মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাশেমী রাসেল অলিখিতভাবে জামিয়া আরাবিয়া নূরুল উলুম কুলিয়ারচর মাদ্রাসা ও কুলিয়ারচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সকল দায়- দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি কুলিয়ারচর পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব ও কুলিয়ারচর বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

জামিয়া আরাবিয়া নুরুল উলূম কুলিয়ারচর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ৪৩ লাখ টাকার উপরে মাদ্রাসা ও মসজিদের বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া যাতে আরো বৃদ্ধি না হয় সেজন্য গত ২ অক্টোবর বুধবার আগের মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নতুন করে প্রিপেইড ডিজিটাল মিটারে সংযোগ দিয়ে যান বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন। 

আবাসিক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সেলিম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম আকন্দ বলেন, ২০০৮ সাল থেকে (সার্ভারের তথ্য অনুযায়ী) এ পর্যন্ত জামিয়া আরাবিয়া নুরুল উলূম কুলিয়ারচর মাদ্রাসা ও কুলিয়ারচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তিনটি মিটারের মধ্যে শুধু একবার ২০১৩ সালের ৩০ জুন মাদ্রাসার একটি বিল ৬৩০৩ টাকা ও আরেকটি বিল ৬৩০০ টাকা এবং মসজিদের একটি বিল ১৩,৫৫৭.৪৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে ও পরে ১৮ বছরের মধ্যে আর কোন বিল পরিশোধ করা হয়নি। বর্তমানে মাদ্রাসার একটি বিল বকেয়া আছে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৮ টাকা, আরো একটি বিল বকেয়া আছে ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৮১০ টাকা এবং মসজিদের একটি বিল বকেয়া আছে ১৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৭৪ টাকা। সর্বমোট তিনটি মিটারে বকেয়া আছে ৪৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮০২ টাকা। এসব বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য একাধিকবার তাগিদ দিলেও বিল পরিশোধ না করায় গত ২ অক্টোবর বুধবার পূর্বের এনালগ মিটার থেকে লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। আর যাতে মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিল বকেয়া না হয় সেজন্য তিনটি প্রিপেইড ডিজিটাল মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দেওয়া হয়। 

সাবেক পৌর কাউন্সিল গোলাম কিবরিয়ার স্ট্যাটাস ভাইরালের পর মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাশেমী রাসেলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ নানান অভিযোগ এমনকি জায়গা-জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। মুখ খুলতে শুরু করেছে ভুক্তভোগীরা। সালিশের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এব্যাপারে মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাশেমী রাসেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবী করে তিনি বলেন, গোলাম কিবরিয়া তার ব্যবহৃত ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাদ্রাসার আয়ের কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা  ব্যয় হয় তা উল্লেখ করেনি। তিনি আরো বলেন, ছাত্রদের নিকট থেকে শুধু বিদ্যুৎ বিলের টাকাই নেওয়া হয়না। বিদ্যুৎ বিল ও জেনারেটরের ডিজেল খরচ বাবদ প্রতি বছর প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ৬০০টাকা করে নেওয়া হয়। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুলিয়ারচর পৌরসভার সকল মসজিদ মাদ্রাসার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার ধারনা ছিলো সরকার মসজিদ মাদ্রাসার বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে দিবে। তাই বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়া হয়নি। মাদ্রাসার সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব নিকাশ কোষাধ্যক্ষের নিকট সংরক্ষিত আছে বলেও জানানি তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং