বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে পিঠা-পুলি। যখনই শীতের আমেজ আসে তখনি পিঠা-পুলি, পায়েস কিংবা নাড়ুর কথা আমাদের মনে ভেসে ওঠে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও নগরায়ণের ফলে এই পিঠা উৎসব আজ বিলুপ্তির পথে।
বাঙালির এই পিঠা উৎসবের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে শতবর্ষী আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ পিঠা উৎসব। আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ এ উৎসবের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে হরেক রকমের পিঠার পসরা নিয়ে বিভিন্ন স্টল সাজান বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।পিঠা উৎসবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণী থেকে মোট ২০টি স্টল ও ২শ’ প্রকারের পিঠা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থীরা। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ,স্টলে স্টলে সারি সারি পিঠার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শন। নানা নামের ও বিভিন্ন রংয়ের মুখরোচক পিঠা স্থান পায় স্টলগুলোতে। বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট তারেক উদ্দিন আহমদ আবাদ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন শোকরানা,বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের বিদ্যুৎসাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন বাচ্চুসহ অন্যান্য সদস্য ও শিক্ষকগণ।পরে অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন।পরে পিঠা উৎসব উপলক্ষে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন শোকরানা বলেন, পিঠা উৎসব বাঙালিদের হাজার বছরের সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে। প্রতিবছরের মতো এবারও আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রামের পিঠা-পুলির আমেজকে ফুটিয়ে তুলতে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে শিক্ষার্থীরা। এই উৎসবের কারণে আজ আমরা আমাদের গ্রামের সেই পিঠা-পুলির ঘ্রাণ নিতে পারছি, স্বাদ নিতে পারছি। তিনি আরও বলেন, এ উৎসবে বিলুপ্তি হওয়া সহ নতুন নতুন পিঠা নিয়ে স্টল সাজানো হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ পিঠা খেতে এসেছেন। আমাদের এই উৎসবে যারা এসেছেন তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে প্রতিবছরই এমন বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হবে।
পিঠা উৎসব উপভোগ করতে আসা শিক্ষার্থী লিজা আক্তার বলেন, বিদেশী অনেক খাবার আমাদের দেশে জায়গা করে নিয়েছে। যার ফলে মায়েদের হাতের অনেক পিঠা আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। প্রতিবছর পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশি পিঠায় পরিচিত হতে পারবে। অপর এক শিক্ষার্থী তানভীর বলেন, পিঠা শুধু খাবার নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ুক সবার প্রাণে। উৎসবের এই আমেজে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক স্বপন কুমার বর্মণ জানান,’বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই উৎসবের আয়োজন’। উৎসবে শিক্ষার্থীদের তৈরী স্টলগুলো ছিল নানা বৈচিত্রের পিঠার সমারোহ। এছাড়াও উৎসবে পিঠা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।পরে অতিথিরা পিঠা উৎসবের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
Leave a Reply