1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

পাকুন্দিয়ার সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না কিছুতেই, ছয় মাসে ১৯ জন নিহত, আহত শতাধিক 

এম এ হান্নান পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।।
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।  প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ১০টায় কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজারে  সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।  ছয় মাসে উপজেলায় ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ অগাস্ট পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু অগাস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনেই ১০টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাজীপুর -কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ভারী যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল। অনেক চালকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স না থাকায় তারা যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছেন।

স্থানীয় পথচারী ও যাত্রীরা বলেন, অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের পাশাপাশি অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব যান চলাচল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিএনজিচালক বলেন, সড়কে এখন অনেক চালকই ট্রাফিক আইন মানছেন না। যে যার মতো করে যানবাহন চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। অল্প বয়সী ও অনভিজ্ঞ চালকদের অনেকেই বড় যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

পথচারী সোহাগ মিয়া  বলেন, “অল্প বয়সী অনেক চালক বড় গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালানও বেপরোয়া অটো চালক,গাজীপুর থেকে কিশোরগঞ্জে অবৈধভাবে  আসা সিএনজি গুলো বন্ধ হলে দুর্ঘটনা কমতে পারে।  এছাড়া আগে সড়কে পুলিশ সদস্যদের টহল বেশি দেখা গেলেও এখন তা তুলনামূলক কম।”

গণমাধ্যম কর্মী,এম এ হান্নান বলেন, কিশোরগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কটি দুই লেনের হওয়ায় দ্রুতগতির যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। এই মহাসড়ক থেকে অটো রিকশা চলাচল  বন্ধ করে দিতে হবে। বাস, সিএনজি, মোটরসাইকেল গতি সীমা ৪০ কিলোমিটার করতে হবে ও প্রতিটা বাজারে স্পিড বেকার, প্রতিটা মোড়ে দিকনির্দেশনামূলক বিলবোর্ড দিয়ে সচেতন মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে  দুর্ঘটনা  ঝুঁকি অনেকটা কমে আসবে। এছাড়া  মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা জরুরী প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকর্মী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি পেশাদার লাইসেন্সধারী ও পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া চালকদের মহাসড়কে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় অনেক যানবাহনের গতি বেড়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, থানারঘাট বাইপাস মোড় ও বিন্নাটি চৌরাস্তা এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা প্রয়োজন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। অবৈধ যান চলাচল বন্ধেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন, সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে নিয়মিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার থানারঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩১টি যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (২২ অগাস্ট) ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান ছিল। এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

পাকুন্দিয়াবাসীর দাবি, শুধু অভিযান বা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বন্ধ, অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। মোটরসাইকেল ৪ চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। দেশে দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় মোটসাইকেল সংস্কৃতি চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব মোটসাইকেল চালক সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। এদের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহতের ঘটনাও বাড়ছে। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং