1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন

কুলিয়ারচরে সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ; দেয়াল নির্মাণে বাধা দেয়ায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বড় ভাইসহ ৪ জনকে মারধোরের অভিযোগ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার,  কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জায়গা সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধের জের ধরে দেয়াল নির্মাণে বাধা দেয়ায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ বড় ভাই-ভাবীসহ ৪ জনকে মারধোরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

রবিবার, ২৩ অগাস্ট বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি নয়াবাড়ী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। 

হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন- দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. জসিম উদ্দিন (৬৫), তার স্ত্রী মোছা. নাছিমা বেগম (৫৫), ছেলে মাওলানা তানভীর আহমদ (২২) ও শ্যালিকা মোছা. আওলিয়া বেগম (৫২)। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর ছেলে তানভীর।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দ্বাড়িয়াকান্দি নয়াবাড়ী এলাকার মৃত হিম্মত আলীর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে মো. জসিম উদ্দিনের পরিবারের সাথে তাঁর ছোট ভাই মো. সাহাজ উদ্দিন গংয়ের দীর্ঘদিন যাবৎ জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ দরবারও হয়েছে। বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় গত রবিবার বিকেলে প্রতিপক্ষের ছোট ভাই মো. সাহাজ উদ্দিন লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জসিম উদ্দিনের বসতবাড়ির উত্তর দিকে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর  নির্মাণ শুরু করে। এ সময় জমির মালিক দাবিদার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বড় ভাই মো. জসিম উদ্দিন ও তার ছেলে তানভীর আহমদ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে বেআইনি দেয়াল নির্মাণে বাধা দিলে প্রতিপক্ষ ছোট ভাই সাহাজ উদ্দিন ও তার লোকজন জসিম উদ্দিন ও তার ছেলে তানভীর আহমদের উপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধোর করতে থাকে। এসময় স্বামী ও ছেলেকে বাঁচাতে এসে মোছা. নাছিমা বেগম ও তার বোন মোছা. আউলিয়া বেগম গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।

অভিযোগ মতে, মো. সাহাজ উদ্দিনের (৪৫) হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. নাছিমা বেগমের কপালে ও মাথায় একাধিক কোপ মারে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।অন্যান্যরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ জসিম উদ্দিনসহ তার ছেলে মাওলানা তানভীর আহমদকে দেশীয় অস্ত্রদী দিয়ে মারধোর করে এবং জসিম উদ্দিনের শ্যালিকা মোছা. আউলিয়া বেগমকে হাত-পা বেধে নির্মম ভাবে মারধর করে। এসময় ভুক্তভোগীদের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় ভবিষ্যতে যদি কেউ দেয়াল নির্মাণে তাদের বাধা দেয় তাহলে তাকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে তানভীর আহমেদ প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।

এদিকে বড় ভাই জসিম উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিপক্ষের ছোট ভাই মো. সাহাজ উদ্দিন বলেন, আমার নিজের সম্পত্তিতে আমরা সীমানা প্রচীর  নির্মাণ করা অবস্থায় রবিবার বিকাল ৪ টার দিকে আমার ভাবী মোছা. নাছিমা বেগম ঝগড়া করার উদ্দেশ্যে আমাদের জায়গা থেকে বেশ কয়েকটি বাঁশ কেটে ক্ষতি করতে থাকে। এসময় আমি বাধা নিষেধ দিলে ভাবী কুড়াল দিয়ে আমাকে কোপ মারতে আসলে আমি কুড়ালটি ধরে ফেলি। এসময় কুড়াল নিয়ে আমাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কুড়ালের ঘারার আঘাতে ভাবীর মাথা ফেটে যায়। অন্যদেরকে কেউ কোন মারধর করেনি। এই জায়গা নিয়ে একাধিকবার এলাকায় সালিশ দরবার হয়েছে। কিন্তু আমার ভাই জসিম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সালিশ দরবার না মেনে উল্টো আমাদেরকে হয়রানি করে আসছে। গত সোমবার, ২৪ অগাস্ট কুলিয়ারচর থানার এএসআই মো. আব্দুল লতিফ বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আমাদের জায়গার উপর ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করার পর আমরা উক্ত জায়গায় দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেই।

উল্লেখ, গত রবিবার ২৩ অগাস্ট হামলার ঘটনার আগে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জসিম উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমদ বাদি হয়ে তার চাচা সাহাজ উদ্দিন (৫০) গংয়ের বিরুদ্ধে ফৌ: কা: বি: আইনের ১৪৪/১৪৫ ধারায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কিশোরগঞ্জে একটি মোকদ্দমা দাখিল করেন। ওই মোকাদ্দমা দাখিলের পর বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে দ্বাড়িয়াকান্দি মৌজার খতিয়ান নং- সিএস- ৫৪৩ ও আর.এস- ৩৯৪, দাগ নং- সিএস- ৪০৭, আর.এস-১২৫৫, শ্রেণি- কান্দা, ১০ শতাংশ বিরোধীয় ভূমিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪/১৪৫ ধারার বিধান মোতাবেক সোমবার ২৪ অগাস্ট বিকেল ৩টার দিকে কুলিয়ারচর থানার কর্তব্যরত এএসআই মো. আব্দুল লতিফ (নি.) একটি নোটিশ জারী করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয় বিরোধীয় ভূমিতে কেউ যদি জোর পূর্বক প্রবেশ করে শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা করে তাহলে সেই পক্ষ আইনে আমলে আসিতে বাধ্য থাকিবেন। নোটিশ জারির পর সোমবার বিকাল ৫ টার দিকে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিরোধী ভূমিতে দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে এবং এলাকার পরিবেশও শান্ত থাকতে দেখা যায়। 

বাদি তানভীরের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং