
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় অলিখিত (নন-জুডিশিয়াল) স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মো. মামুন নামে এক ব্যক্তি। তার দাবি ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে, যা ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মামুন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার শ্বশুরবাড়ি তাড়াইল উপজেলার বান্দলিয়া দক্ষিণপাড়ায়। সম্প্রতি তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধাতুর পহেলা গ্রামের বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে একটি তার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর রাতে মামুন তার স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে আনতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। এ সময় তার সামনে কয়েকটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও একটি হলুদ কার্টিজ রেখে তাতে স্বাক্ষর করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
মামুন অভিযোগ করেন, স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক অভিযুক্ত তার গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সময় অন্যরা তাকে মারধর ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে তিনি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পসহ মোট চারটি স্থানে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
পরে তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও বহু চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে তিনি আশঙ্কা করছেন, এসব স্বাক্ষর ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের বা আর্থিক ক্ষতি করা হতে পারে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১ এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামুন আদালতের মাধ্যমে তার স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্প উদ্ধার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a Reply